জরুরি উত্তর
শুধু মুখে “তালাক” বলা, নোটারি হলফনামা করা বা ব্যক্তিগতভাবে একটি তালাকপত্র তৈরি করলেই বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদের আইনগত প্রক্রিয়া নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয় না। কে বিবাহবিচ্ছেদ শুরু করছেন এবং কোন ক্ষমতা বা আইনি ভিত্তিতে করছেন—তার ওপর সঠিক পদ্ধতি নির্ভর করে। স্বামীকে প্রধানত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুসরণ করতে হয়। স্ত্রী কেবল বৈধভাবে অর্পিত ক্ষমতা থাকলে তালাক-ই-তাফউইজ প্রয়োগ করতে পারেন; খুলা ও মুবারাত সমঝোতানির্ভর; আর আইনসম্মত কারণ থাকলে স্ত্রী পারিবারিক আদালত থেকে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।
সঠিক নোটিশ, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর প্রমাণ, প্রযোজ্য অপেক্ষাকাল এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নিবন্ধন—একটি নির্ভরযোগ্য তালাকের রেকর্ড তৈরির অপরিহার্য অংশ। তালাক হলেও দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অধিকার আলাদাভাবে নির্ধারণ করতে হয়।
মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদের আইনগত ধাপ
নির্ভরযোগ্য তালাকের রেকর্ডের জন্য সঠিক আইনগত পথ, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, নোটিশের প্রমাণ, সময়সীমা এবং নিবন্ধন—সবকটি ধাপ প্রয়োজন।
- 1
আইনগতভাবে প্রযোজ্য পথ নির্ধারণ
- 2
কাবিননামা, দলিল ও এখতিয়ার যাচাই
- 3
নোটিশ, চুক্তি বা পারিবারিক আদালতের মামলা প্রস্তুত
- 4
প্রয়োজনীয় প্রত্যেক পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রমাণ সংরক্ষণ
- 5
অপেক্ষাকাল, পুনর্মিলন বা ডিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন
- 6
তালাক নিবন্ধন ও Form G-1 যাচাই
জরুরি উত্তর ও প্রক্রিয়ার ধাপ খোলা আছে। পাঁচটি বড় অধ্যায়ে সহায়ক আইন ও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা একত্র করা হয়েছে; প্রতিটি সাধারণ প্রশ্ন আলাদাভাবে খোলা যাবে।
১. আইনগত কাঠামো ও বিবাহবিচ্ছেদের পথসমূহ
কোন কোন আইন প্রযোজ্য?
| আইন বা বিধিমালা | প্রধান বিষয় |
|---|---|
| মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (নতুন ট্যাবে খুলবে), ধারা ৭–৮ | তালাক নোটিশ, সালিশি পরিষদ, ৯০ দিন, গর্ভাবস্থা ও অর্পিত ক্ষমতায় বিবাহবিচ্ছেদ |
| Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 (নতুন ট্যাবে খুলবে), ধারা ২–৫ | মুসলিম স্ত্রীর আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের কারণসমূহ |
| মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ (নতুন ট্যাবে খুলবে), ধারা ৬–৯ | তালাক নিবন্ধন, অর্পিত ক্ষমতার প্রমাণ, রেজিস্টার ও সত্যায়িত অনুলিপি |
| পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (নতুন ট্যাবে খুলবে), ধারা ৫, ৬ ও ২৬ | পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার, মামলা দায়েরের স্থান ও ডিক্রি কার্যকর হওয়া |
| মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯—২০২৫ সালে সংশোধিত (নতুন ট্যাবে খুলবে) | নিবন্ধনপদ্ধতি, সরকারি ফি এবং নির্ধারিত বিবাহ ও তালাক সনদ |
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ পূর্বের Family Courts Ordinance, 1985-কে প্রতিস্থাপন করেছে। ২০২৫ সালের সংশোধনীতে নির্ধারিত Form G-1 তালাক সনদ চালু করা হয়েছে এবং তালাক নিবন্ধনের ফি ১,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত সনদ বা অনুলিপির জন্য পৃথক ফি প্রযোজ্য হতে পারে; সব অর্থ প্রদানের সরকারি রসিদ সংগ্রহ করা উচিত।
মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদের পাঁচটি পৃথক পথ
| পদ্ধতি | কে শুরু করেন? | সাধারণত আদালত প্রয়োজন? | মূল আইনগত সুরক্ষা |
|---|---|---|---|
| স্বামীর তালাক | স্বামী | না | ৭ ধারায় সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে নোটিশ এবং স্ত্রীকে অনুলিপি |
| তালাক-ই-তাফউইজ | অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্ত্রী | না | কাবিননামার এন্ট্রি বা নিবন্ধিত দলিলে ক্ষমতার প্রমাণ |
| খুলা | সাধারণত স্ত্রী প্রস্তাব করেন এবং স্বামী সম্মত হন | প্রকৃত সমঝোতা হলে না | বিবাহবিচ্ছেদ ও আর্থিক শর্তের লিখিত সমঝোতা |
| মুবারাত | উভয় স্বামী-স্ত্রী | প্রকৃত সমঝোতা হলে না | স্বাধীন পারস্পরিক সম্মতি ও লিখিত নিষ্পত্তি |
| আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ | মুসলিম স্ত্রী | হ্যাঁ | ১৯৩৯ সালের আইনের এক বা একাধিক কারণ প্রমাণ |
পদ্ধতিগুলো এক নয়। বিশেষ করে, প্রত্যেক স্ত্রী স্বামীর মতো একইভাবে একতরফা তালাক দিতে পারেন—এমন ধারণা সঠিক নয়। স্ত্রীর পথ নির্ভর করতে পারে অর্পিত ক্ষমতা, স্বামীর সম্মতি অথবা পারিবারিক আদালতের ডিক্রির ওপর।
২. স্বামীর তালাক, নোটিশ ও ৯০ দিনের বিধান
স্বামী কর্তৃক তালাক: আইনসম্মত প্রক্রিয়া
১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ৭(১) ধারা অনুযায়ী, যেকোনোভাবে তালাক ঘোষণার পর স্বামীকে যথাশীঘ্র সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীকে তার একটি অনুলিপি দিতে হবে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
একটি সঠিক নথিতে সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় ও ঠিকানা, বিবাহ ও কাবিননামা নিবন্ধনের তথ্য, তালাক ঘোষণার তারিখ এবং ৭(১) ধারার উল্লেখ থাকা উচিত। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর প্রমাণ, স্ত্রীকে অনুলিপি দেওয়ার প্রমাণ এবং ডাক বা প্রাপ্তিস্বীকারের কাগজ সংরক্ষণ জরুরি।
“চেয়ারম্যান” এখানে একটি আইনগত পরিভাষা। এলাকা অনুযায়ী এর অর্থ ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক কিংবা আইনানুগভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তি হতে পারে। নির্ধারিত ভৌগোলিক এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষকে শনাক্ত করতে হবে। যেকোনো কাউন্সিলরকে অথবা শুধু নিকাহ রেজিস্ট্রারকে নোটিশ পাঠানো ৭ ধারার শর্ত পূরণ নাও করতে পারে।
শুধু মৌখিক তালাকে কি বিবাহ শেষ হয়?
মৌখিক ঘোষণা তালাকের অভিপ্রায়ের প্রমাণ হতে পারে, কিন্তু তাতেই আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। ৭ ধারা লিখিত নোটিশ বাধ্যতামূলক করেছে এবং তালাক কার্যকর হওয়ার সময় পিছিয়ে দিয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ বা অনুপস্থিত নোটিশের ফল নিয়ে বিভিন্ন রায়ে ব্যবহৃত যুক্তি পুরোপুরি এক নয়। তাই নোটিশ, অপেক্ষাকাল ও নিবন্ধন সম্পন্ন না করে শুধু মুখের কথা, মেসেজ বা নোটারি হলফনামার ওপর নির্ভর করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
Md Serajul Islam v Most Helena Begum, 19 BLD (AD) 150; 7 BLT (AD) 137 মামলায় আপিল বিভাগ ৭ ধারার নোটিশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্বামী নিজে হলফনামাকে তালাকের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে পরে নিজের নোটিশ না দেওয়ার সুবিধা নিতে পারেন না—মামলার প্রেক্ষাপটে আদালত এমন সিদ্ধান্ত দেন। একই মামলায় স্ত্রীর দেনমোহরের অধিকারও স্বীকৃত হয়।
স্বামী কর্তৃক তালাক নোটিশের নমুনা
সংযুক্ত ফরমটি কেবল খসড়া তৈরির সহায়ক নমুনা। নাম-পরিচয়, তারিখ, ঠিকানা ও এখতিয়ার অবশ্যই যাচাই করতে হবে। শুধু নোটিশ দেওয়ার জন্য সাধারণত দীর্ঘ অভিযোগের বিবরণ প্রয়োজন হয় না; অপ্রয়োজনীয় অভিযোগ পরবর্তী বিরোধ তৈরি করতে পারে।
নমুনা দলিল: স্বামীর ৭ ধারার তালাক নোটিশ
এই বাংলা নমুনায় স্বামীর নোটিশের সাধারণ কাঠামো দেখানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনায় নাম, তারিখ, ঠিকানা, এখতিয়ার, তালাক ঘোষণার তথ্য ও নোটিশ জারির পদ্ধতি সংশোধন করতে হবে।
| দলিল | আইনগত উদ্দেশ্য | গুরুত্বপূর্ণ যাচাই |
|---|---|---|
| স্বামীর তালাক নোটিশ | ৭(১) ধারার লিখিত নোটিশ এবং স্ত্রীকে অনুলিপি | সঠিক চেয়ারম্যান, পূর্ণ পরিচয়, ঘোষণার তারিখ, স্ত্রীর অনুলিপি ও উভয় ডেলিভারির প্রমাণ |
প্রিভিউ ও PDF
বিন্যাস দেখতে প্রিভিউ খুলুন অথবা আইনগতভাবে অভিযোজনের জন্য এক পৃষ্ঠার PDF ডাউনলোড করুন।
চেয়ারম্যান, সালিশি পরিষদ ও ৯০ দিনের বিধান
১. তালাকের নোটিশ কাকে দিতে হবে?
মূল নোটিশ সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং স্ত্রীকে তার অনুলিপি দিতে হবে। উভয় নোটিশের প্রেরণ ও প্রাপ্তির স্বাধীন প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
২. নোটিশের কত দিন পর তালাক কার্যকর হয়?
৯০ দিনের হিসাব শুরু হয় নোটিশটি চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছানোর দিন থেকে—তালাক উচ্চারণ, নোটিশে স্বাক্ষর, নোটারি বা ডাকঘরে জমা দেওয়ার দিন থেকে নয়। Md Ataul Hoque v Anwar A Karim, 8 BLT (AD) 30 মামলায় সংশ্লিষ্ট নগর কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর পর ৯০ দিন গণনা করা হয়; অপর পক্ষকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
৩. চেয়ারম্যান বা মেয়রের ভূমিকা কী?
নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করার জন্য একটি সালিশি পরিষদ গঠন করতে হয়। এতে চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষের একজন করে প্রতিনিধি থাকেন; নির্ধারিত সময়ে কোনো পক্ষ প্রতিনিধি মনোনীত না করলে তাকে ছাড়াও পরিষদ গঠিত হতে পারে। পরিষদ আদালতের ডিক্রি দেয় না, দেনমোহর নির্ধারণ করে না এবং তালাক অনুমোদন বা বাতিল করার সাধারণ বিচারিক ক্ষমতাও পরিষদের নেই।
৪. স্ত্রী গর্ভবতী হলে কী হবে?
৭(৫) ধারা অনুযায়ী, তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী গর্ভবতী হলে ৯০ দিন শেষ হওয়া অথবা গর্ভাবস্থার অবসান—এই দুই সময়ের মধ্যে যেটি পরে ঘটবে, তার আগে তালাক কার্যকর হবে না।
অপেক্ষাকালে তালাক স্পষ্টভাবে অথবা আচরণের মাধ্যমে “অন্যভাবে” প্রত্যাহার হতে পারে। Rabeya Khatun and others v Taslima Hasan, F.A. No. 08 of 2012 (HCD, 16 November 2015) মামলায় পরবর্তী দাম্পত্য জীবন অব্যাহত রাখার আচরণকে সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে প্রত্যাহারের সহায়ক হিসেবে দেখা হয়। পুনর্মিলন হলে তা দ্রুত লিখিতভাবে নথিবদ্ধ করে চেয়ারম্যান ও নিকাহ রেজিস্ট্রারকে জানানো উচিত।
৩. স্ত্রী-উদ্যোগে ও আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ
একজন মুসলিম স্ত্রী কীভাবে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন?
তালাক-ই-তাফউইজ: অর্পিত তালাকের ক্ষমতা
স্বামী বৈধভাবে ক্ষমতা অর্পণ করলে তবেই স্ত্রী তালাক-ই-তাফউইজ প্রয়োগ করতে পারেন। এই ক্ষমতা সাধারণত কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে, কখনও শর্তসাপেক্ষে, অথবা পৃথক নিবন্ধিত দলিলে দেওয়া হয়।
১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ৮ ধারা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ ৭ ধারার প্রক্রিয়াকে অর্পিত ক্ষমতায় তালাক এবং তালাক ছাড়া অন্যভাবে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করেছে। ১৯৭৪ সালের আইনের ৬(৩) ধারা অনুযায়ী, ক্ষমতা অর্পণের নিবন্ধিত দলিল অথবা বিবাহ রেজিস্টারের সংশ্লিষ্ট এন্ট্রির সত্যায়িত অনুলিপি ছাড়া নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক-ই-তাফউইজ নিবন্ধন করতে পারবেন না।
স্ত্রীর নোটিশে ক্ষমতা অর্পণের উৎস ও শর্ত, প্রযোজ্য শর্ত পূরণের বিবরণ এবং সরকারি প্রমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। বৈধ ক্ষমতা ছাড়া সাধারণ “স্ত্রী কর্তৃক তালাক নোটিশ” ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
স্ত্রী কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতায় তালাক নোটিশের নমুনা
সংযুক্ত নমুনাটি শুধু তালাক-ই-তাফউইজের জন্য। কাবিননামা বা অন্য বৈধ দলিলে প্রকৃত ক্ষমতা অর্পণ না থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না। এটি খুলার চুক্তি বা পারিবারিক আদালতের আরজির বিকল্প নয়।
খুলা ও মুবারাত
খুলা সাধারণত স্ত্রীর প্রস্তাব এবং স্বামীর সম্মতিতে সম্পাদিত সমঝোতামূলক বিবাহবিচ্ছেদ। মুবারাত হলো উভয় পক্ষের স্বাধীন সম্মতিতে পারস্পরিক বিচ্ছেদ। লিখিত চুক্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের সম্মতি, নোটিশ ও নিবন্ধনের দায়িত্ব, বকেয়া দেনমোহর, কোনো বৈধ ফেরত বা মওকুফ, ব্যক্তিগত সম্পত্তি, ভরণপোষণ এবং খরচের বিষয় স্পষ্ট করতে হবে।
কোনো চুক্তিকে “খুলা” বলা হয়েছে বলেই স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সব আর্থিক দাবি ছেড়ে দিয়েছেন—এমন নয়। সম্মতি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে কি না, বিনিময় কী এবং কোন অধিকার অবশিষ্ট আছে—তা আলাদাভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন। সন্তানের ভরণপোষণ বা হেফাজত বাবা-মায়ের ব্যক্তিগত দর-কষাকষির সম্পদ নয়।
স্বামী খুলায় সম্মত না হলে এবং স্ত্রীর অর্পিত ক্ষমতা না থাকলে, আইনসম্মত কারণের ভিত্তিতে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন।
নমুনা দলিল: স্ত্রীর অর্পিত ক্ষমতায় তালাক নোটিশ
এই বাংলা নমুনাটি শুধু তালাক-ই-তাফউইজের জন্য, যেখানে কাবিননামার ঘর বা নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে স্ত্রীকে বৈধভাবে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।
| দলিল | কখন প্রযোজ্য হতে পারে | গুরুত্বপূর্ণ যাচাই |
|---|---|---|
| স্ত্রীর তালাক-ই-তাফউইজ নোটিশ | শুধু বৈধভাবে তালাকের ক্ষমতা অর্পিত হলে | কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘর বা নিবন্ধিত দলিল, প্রযোজ্য শর্ত, সঠিক চেয়ারম্যান, স্বামীর অনুলিপি ও নিবন্ধনের প্রমাণ |
প্রিভিউ ও PDF
ফরম পূরণ বা জারির আগে ক্ষমতা অর্পণের দলিল যাচাই করুন।
১৯৩৯ সালের আইনে আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ
Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939-এর ২ ধারা অনুযায়ী একজন মুসলিম স্ত্রী নিচের এক বা একাধিক কারণে ডিক্রি চাইতে পারেন:
| কারণ | আইনে নির্ধারিত শর্ত বা উদাহরণ |
|---|---|
| স্বামীর খোঁজ না থাকা | চার বছর ধরে স্বামীর অবস্থান অজানা |
| ভরণপোষণ না দেওয়া | দুই বছর ভরণপোষণে অবহেলা বা ব্যর্থতা |
| অনুমতিবিহীন অতিরিক্ত বিবাহ | ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে আরেকটি বিবাহ |
| কারাদণ্ড | সাত বছর বা তার বেশি মেয়াদের চূড়ান্ত দণ্ড |
| দাম্পত্য দায়িত্ব পালন না করা | যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর ব্যর্থতা |
| পুরুষত্বহীনতা | বিবাহের সময় বিদ্যমান এবং চলমান; আইনের বিশেষ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য |
| গুরুতর অসুস্থতা | দুই বছর মানসিক অসুস্থতা, কুষ্ঠ বা মারাত্মক যৌনরোগ |
| অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় দেওয়া বিবাহ প্রত্যাখ্যান | ১৮ বছরের আগে অভিভাবক কর্তৃক দেওয়া বিবাহ ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে প্রত্যাখ্যান করা এবং দাম্পত্য সহবাস না হওয়া |
| নিষ্ঠুরতা | নিয়মিত আঘাত, গুরুতর আচরণগত নির্যাতনসহ আইনে উল্লেখিত অন্যান্য আচরণ |
| মুসলিম আইনে স্বীকৃত অন্য কারণ | মুসলিম আইনে বৈধ হিসেবে স্বীকৃত অন্য কোনো কারণ |
শর্তগুলো সতর্কভাবে পড়তে হয়। যেমন, নিখোঁজ স্বামীর কারণে দেওয়া ডিক্রি ছয় মাস কার্যকর হয় না এবং নির্দিষ্ট আত্মীয়দের নোটিশ দিতে হয়; কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে দণ্ড চূড়ান্ত হতে হয়; আর পুরুষত্বহীনতার অভিযোগে আইনে স্বামীকে নির্দিষ্ট সুযোগ দেওয়ার বিধান আছে। ৫ ধারা স্পষ্ট করে যে আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ স্ত্রীর দেনমোহরের অধিকার নষ্ট করে না।
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ৫ ও ৬ ধারা অনুযায়ী পারিবারিক আদালত বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধানের মামলা বিচার করে। আইনের অন্যান্য এখতিয়ারের পাশাপাশি স্ত্রী যেখানে সাধারণত বসবাস করেন, সেই এলাকার আদালতেও বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মামলা করা যেতে পারে।
আদালত মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি দিলে সাত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তার সত্যায়িত অনুলিপি সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবে। ২৬ ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিন পর ডিক্রি সাধারণত কার্যকর হয়; ওই সময়ের মধ্যে আইনসম্মত পুনর্মিলন হলে ডিক্রি কার্যকর থাকে না। ১৯৩৯ সালের আইনের অতিরিক্ত অপেক্ষাকাল থাকলে সেটিও মানতে হবে।
৪. নিবন্ধন, Form G-1 ও তালাক-পরবর্তী অধিকার
তালাক নিবন্ধন ও Form G-1 তালাক সনদ
চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাক নিবন্ধন দুটি পৃথক কাজ। চেয়ারম্যান সালিশি ও পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন; লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ দেন।
১৯৭৪ সালের আইনের ৬–৯ ধারা তালাক নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করে। Rabeya Khatun v Taslima Hasan মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ নিবন্ধনকে বাধ্যতামূলক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং অর্পিত ক্ষমতার প্রমাণ ছাড়া তালাক-ই-তাফউইজ নিবন্ধন করা যায় না বলে গুরুত্ব দেন। তাই নিবন্ধনকে ঐচ্ছিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, অপরিহার্য কমপ্লায়েন্স ও প্রমাণের ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
২০২৫ সালের এপ্রিলের সংশোধনীতে Form G-1 তালাক সনদ চালু হয়েছে। এতে পৃথকভাবে উল্লেখ থাকে:
- বিবাহ ও বিবাহ নিবন্ধনের তারিখ;
- তালাক ঘোষণার তারিখ;
- তালাক কার্যকর হওয়ার তারিখ;
- তালাক নিবন্ধনের তারিখ ও নম্বর;
- বই, ভলিউম, পৃষ্ঠা ও সাল; এবং
- নিকাহ রেজিস্ট্রারের পরিচিতি ও স্বাক্ষর।
এই তারিখগুলো এক নয়। ১৯৭৪ সালের আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধন শেষ হলে পক্ষদের তালাক রেজিস্টারের এন্ট্রির একটি সত্যায়িত অনুলিপি বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা।
বর্তমান Form G-1 তালাক সনদের নমুনা
সংযুক্ত ছবিটি বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত নির্ধারিত খালি ফরম। কোনো ব্যক্তির প্রকৃত সনদ প্রকাশের আগে রেজিস্টারের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নাম, ঠিকানা, তারিখ, নম্বর, স্বাক্ষর ও অন্যান্য পরিচয়সূচক তথ্য সম্পূর্ণভাবে আড়াল করতে হবে।

তালাকের পর দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের অধিকার
তালাক হলেই বকেয়া দেনমোহর বিলুপ্ত হয় না। কাবিননামা, অর্থ পরিশোধের প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইন দেখে বকেয়া নির্ধারণ করতে হয়। পরিশোধের ধরন কাবিননামায় উল্লেখ না থাকলে ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ১০ ধারা অনুযায়ী পুরো দেনমোহর দাবিমাত্র পরিশোধযোগ্য বলে গণ্য হয়।
বিবাহ চলাকালে জমা হওয়া ভরণপোষণের বকেয়া এবং তালাক-পরবর্তী ভরণপোষণ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়। Hefzur Rahman (Md) v Shamsun Nahar Begum, 51 DLR (AD) 172 মামলায় আপিল বিভাগ অনির্দিষ্টকাল তালাক-পরবর্তী ভরণপোষণের ধারণা গ্রহণ করেননি এবং ইদ্দতকালীন ভরণপোষণের মুসলিম আইনি অবস্থান প্রয়োগ করেন। প্রকৃত দাবির অঙ্ক ঘটনা ও প্রমাণনির্ভর।
সন্তানের অধিকার স্বতন্ত্র। বাবা-মায়ের তালাক সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব শেষ করে না। হেফাজত, সাক্ষাৎ, অভিভাবকত্ব, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় পৃথকভাবে নির্ধারিত হতে পারে; সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণই মুখ্য। তালাক নোটিশ বা খুলার চুক্তি দিয়ে সন্তানের আইনগত দাবি নিরাপদভাবে বিলুপ্ত করা যায় না।
স্বামী বা স্ত্রী বিদেশে থাকলে
১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ ও ১৯৭৪ সালের আইন বাংলাদেশের মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে তারা যেখানেই থাকুন প্রযোজ্য। বিদেশে থাকা পক্ষকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এখতিয়ার যাচাই করে ট্র্যাকযোগ্য মাধ্যমে নথি পাঠাতে এবং প্রাপ্তির প্রমাণ রাখতে হবে। বাংলাদেশে কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য কনস্যুলার সত্যায়ন বা সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রয়োজন হতে পারে।
বিদেশি আদালতের তালাক আদেশ বাংলাদেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। আদালতের এখতিয়ার, অপর পক্ষকে নোটিশ, অংশগ্রহণের সুযোগ, আদেশের চূড়ান্ততা, জননীতি এবং বাংলাদেশের বাধ্যতামূলক বিধান—সবই স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুনর্বিবাহ বা সরকারি রেকর্ড পরিবর্তনের আগে আইনি পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫. ঝুঁকি যাচাই ও ব্যবহারিক চেকলিস্ট
অসম্পূর্ণ বা বিতর্কিত তালাকের সতর্কসংকেত
- কেবল মৌখিক ঘোষণা, মেসেজ বা হলফনামা আছে;
- ভুল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বা প্রাপ্তির প্রমাণ নেই;
- স্ত্রী নোটিশের অনুলিপি পাননি;
- চেয়ারম্যানের প্রাপ্তির পরিবর্তে স্বাক্ষর বা ডাকের তারিখ থেকে ৯০ দিন ধরা হয়েছে;
- স্ত্রী ক্ষমতার দলিল ছাড়াই তালাক-ই-তাফউইজের ফরম ব্যবহার করেছেন;
- খুলা বা মুবারাতে স্বাধীন সম্মতি ও আর্থিক শর্ত স্পষ্ট নয়;
- তালাক ঘোষণা, কার্যকর হওয়া ও নিবন্ধনের তারিখে অসংগতি আছে;
- পুনর্মিলন হয়েছে কিন্তু নথিবদ্ধ হয়নি;
- তালাক নিবন্ধিত হয়নি; অথবা
- সনদের তথ্য সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারের সঙ্গে মেলে না।
বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে বিরোধ থাকলে অনুমানের ভিত্তিতে পুনর্বিবাহ করবেন না। কাবিননামা, নোটিশ ও প্রাপ্তির প্রমাণ, সালিশি পরিষদের কাগজ, আদালতের নথি, নিবন্ধনের এন্ট্রি এবং তালাক সনদ সংরক্ষণ করে লিখিত আইনি মতামত নিন।
আবেদন বা নিবন্ধনের আগে সংক্ষিপ্ত চেকলিস্ট
- সঠিক পথ নির্ধারণ করে মূল কাবিননামা পরীক্ষা করুন।
- সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার শনাক্ত করুন।
- নির্ভুল নথি তৈরি করে প্রত্যেক প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে নোটিশ দিন এবং প্রমাণ রাখুন।
- চেয়ারম্যানের প্রকৃত প্রাপ্তির তারিখ থেকে সময় গণনা করুন।
- পুনর্মিলন বা প্রত্যাহার হলে দ্রুত লিখিতভাবে নথিবদ্ধ করুন।
- নিবন্ধন সম্পন্ন করে Form G-1 সংগ্রহ করুন এবং আর্থিক ও সন্তানসংক্রান্ত বিষয় আলাদাভাবে নিষ্পত্তি করুন।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
নোটারি হলফনামা কি তালাক সনদ?
না। নোটারি স্বাক্ষর বা ঘোষণার সত্যায়ন করতে পারে; কিন্তু এটি ৭ ধারার নোটিশ, অপেক্ষাকাল, নিবন্ধন বা নির্ধারিত তালাক সনদের বিকল্প নয়।
স্ত্রী কি বাংলাদেশে তালাক দিতে পারেন?
স্বামী বৈধভাবে ক্ষমতা অর্পণ করলে স্ত্রী তালাক-ই-তাফউইজ প্রয়োগ করতে পারেন। তা না হলে পারস্পরিক সম্মতিতে খুলা বা মুবারাত, অথবা আইনসম্মত কারণে পারিবারিক আদালতের ডিক্রি চাইতে পারেন।
নোটিশ ডাকযোগে পাঠানোর দিন থেকেই কি ৯০ দিন শুরু হয়?
না। ৭(৩) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর দিন থেকে ৯০ দিন গণনা করতে হয়। প্রাপ্তির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রাখুন।
চেয়ারম্যান কি তালাক বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন?
চেয়ারম্যান সালিশি পরিষদের মাধ্যমে পুনর্মিলনের চেষ্টা করেন। যথাযথভাবে শুরু করা স্বামীর তালাক অনুমোদন বা বাতিল করার সাধারণ বিচারিক ক্ষমতা চেয়ারম্যানের নেই।
সালিশি পরিষদ পক্ষদের না ডাকলে কী হবে?
নোটিশ গ্রহণের প্রমাণ রাখুন, লিখিতভাবে অনুসরণ করুন এবং তালাকের ওপর নির্ভর করার আগে আইনি পরামর্শ নিন। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা কার্যকর তারিখ অনুমান বা নিবন্ধন বাদ দেওয়ার ভিত্তি নয়।
৯০ দিন শেষ হওয়ার পরও কি নিবন্ধন দরকার?
হ্যাঁ, নিবন্ধনকে অপরিহার্য ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। ১৯৭৪ সালের আইন নিবন্ধনের পদ্ধতি দিয়েছে এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিবন্ধনকে বাধ্যতামূলক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তালাক হলে কি বকেয়া দেনমোহর বাতিল হয়?
না। আইনসম্মতভাবে পরিশোধ, মওকুফ বা নিষ্পত্তি না হলে বকেয়া দেনমোহর একটি স্বতন্ত্র দাবি। ১৯৩৯ সালের আইনের ৫ ধারা আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের পরও দেনমোহরের অধিকার সংরক্ষণ করে।
তালাকপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রী কি আবার পরস্পরকে বিয়ে করতে পারেন?
৭(৬) ধারা অনুযায়ী তৃতীয়বার কার্যকর তালাক না হলে মধ্যবর্তী অন্য বিবাহ ছাড়াই একই স্বামীকে পুনরায় বিয়েতে সাধারণ বাধা নেই। তবে তালাকের ধরন ও প্রতিটি ঘটনার আইনগত প্রভাব আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
Roy Law Nexus যেভাবে সহায়তা করতে পারে
সঠিক পদ্ধতি, দলিল ও এখতিয়ার নির্ধারণ
Roy Law Nexus কোনো নোটিশ, সমঝোতা বা মামলা শুরুর আগে কাবিননামা, ১৮ নম্বর কলামে অর্পিত ক্ষমতা, বৈবাহিক অবস্থা, প্রযোজ্য তালাকের পথ, স্থানীয় এখতিয়ার এবং বিদ্যমান নথি পর্যালোচনা করে।
নোটিশ, সমঝোতা ও আদালতে প্রতিনিধিত্ব
আমরা ৭ ধারার নোটিশ, অর্পিত ক্ষমতায় তালাকের নোটিশ, খুলা ও মুবারাত চুক্তি প্রস্তুত ও পর্যালোচনা; প্রমাণযোগ্যভাবে নোটিশ জারি; সালিশি পরিষদে সহায়তা; এবং বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, হেফাজত ও অভিভাবকত্বসংক্রান্ত পারিবারিক আদালতের মামলায় প্রতিনিধিত্ব করি।
নিবন্ধন, সনদ, হলফনামা ও অনুবাদ
আমরা তালাক নিবন্ধন, Form G-1 সনদ ও রেজিস্টারের এন্ট্রি যাচাই, প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে আইনসম্মত হলফনামা প্রস্তুত এবং কাবিননামা, তালাক নোটিশ, চুক্তি, ডিক্রি ও বিবাহ বা তালাক সনদের সত্যায়িত বাংলা-ইংরেজি অনুবাদে সহায়তা করি। বিদেশে ব্যবহারের জন্য সত্যায়ন, কনস্যুলার প্রক্রিয়া ও নথির শর্ত সম্পর্কেও পরামর্শ দেওয়া হয়।
তারিখ বা নোটিশ নিয়ে বিরোধ, ১৮ নম্বর কলামের ক্ষমতা প্রয়োগ, নোটিশের পর পুনর্মিলন, বিদেশি নথি বা পুনর্বিবাহের পরিকল্পনা থাকলে শুরুতেই নথি পর্যালোচনা জরুরি।
নির্বাচিত আইন, মামলার নজির ও পাঠসূত্র
- মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (নতুন ট্যাবে খুলবে), ধারা ২ ও ৭–১০।
- Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 (নতুন ট্যাবে খুলবে), ধারা ২–৫।
- মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ (নতুন ট্যাবে খুলবে), ধারা ৬–৯।
- পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (নতুন ট্যাবে খুলবে), ধারা ৫, ৬ ও ২৬।
- এসআরও নং ৯২-আইন/২০২৫, বাংলাদেশ গেজেট, ৭ এপ্রিল ২০২৫ (নতুন ট্যাবে খুলবে)।
- Rabeya Khatun and others v Taslima Hasan, F.A. No. 08 of 2012 (HCD) (নতুন ট্যাবে খুলবে)।
- Md Ataul Hoque v Anwar A Karim, 8 BLT (AD) 30।
- Md Serajul Islam v Most Helena Begum, 19 BLD (AD) 150; 7 BLT (AD) 137।
- Hefzur Rahman (Md) v Shamsun Nahar Begum, 51 DLR (AD) 172।
- Shahnewaj Patwari, “Muslim Women’s Right to Divorce and Gender Equality Issues in Bangladesh” (নতুন ট্যাবে খুলবে), Journal of International Women’s Studies, vol. 21, issue 6।
লেখক পরিচিতি

স্বদীপ রায় সজীব
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
সদস্য, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশন
আইনি ঘোষণা: এই নিবন্ধটি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পর্যালোচিত বাংলাদেশের আইন ও সরকারি উপকরণের ভিত্তিতে সাধারণ আইনি তথ্য দেয়। তালাকের বৈধতা ও পরিণতি ঘটনানির্ভর; কোনো নোটিশ, সমঝোতা, ডিক্রি, সনদ বা বিদেশি আদেশের ওপর নির্ভর করার আগে আইনি পরামর্শ নিন।



