পাওয়ার অব অ্যাটর্নিRead the English version

বাংলাদেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: প্রণয়ন, নিবন্ধন, বিদেশে সম্পাদন, বাতিল ও আইনগত ঝুঁকি—পূর্ণাঙ্গ ২০২৬ নির্দেশিকা

সম্পত্তি, প্রবাসীদের দলিল, নিবন্ধন, বাতিল ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবহারিক আইনগত নির্দেশিকা।

লেখক: স্বদীপ রায় সজীব·২৩–২৭ মিনিট·
বাংলাদেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০২৬ নির্দেশিকা—এডভোকেট স্বদীপ রায় সজীব

সংক্ষেপে জরুরি তথ্য

এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট Roy Law Nexus—Legal & Tax Solutions

সর্বশেষ আইনগত যাচাই: ২৫ আগস্ট ২০২৬

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা এমন একটি আইনগত দলিল, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে তার পক্ষে দলিলে নির্ধারিত কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করেন।

তবে কয়েকটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন:

  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিজে কোনো জমি বা সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করে না।
  • পাওয়ারগ্রহীতা কেবল দলিলে সুস্পষ্টভাবে দেওয়া ক্ষমতাই প্রয়োগ করতে পারেন।
  • সব ধরনের সম্পত্তিসংক্রান্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক—এমন ধারণা সঠিক নয়।
  • আইনে সংজ্ঞায়িত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
  • বিদেশে সম্পাদিত দলিলের ক্ষেত্রে প্রমাণীকরণ, বাংলাদেশে প্রেরণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, স্ট্যাম্পিং এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিবন্ধনের পৃথক সময়সীমা রয়েছে।
  • সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করতে সাধারণত ৩০ দিনের রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশ দিতে হয়।
  • পাওয়ারদাতার মৃত্যু হলেই সব ধরনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি একইভাবে বাতিল হয় না; অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে।

বিস্তারিত জানতে প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর ক্লিক করুন

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী?

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ (নতুন ট্যাবে খুলবে)-এর ধারা ২(১) অনুযায়ী, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হলো এমন একটি দলিল, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি তার পক্ষে দলিলে বর্ণিত কাজ সম্পাদনের জন্য আইনানুগভাবে অন্য ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান করেন।

এখানে—

  • ক্ষমতা প্রদানকারী ব্যক্তি হলেন পাওয়ারদাতা বা Principal;
  • ক্ষমতা গ্রহণকারী ব্যক্তি হলেন পাওয়ারগ্রহীতা, Attorney বা Agent

পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে সাধারণত যেসব কাজের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে:

  • জমি, ফ্ল্যাট বা অন্যান্য সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা;
  • ভাড়া আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণ;
  • নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রির দলিল সম্পাদন;
  • ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কাজ;
  • ব্যবসায়িক বা প্রশাসনিক কার্যক্রম;
  • চুক্তি স্বাক্ষর;
  • সরকারি দপ্তরে আবেদন ও প্রতিনিধিত্ব;
  • মামলা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর বা আইনজীবী নিয়োগ;
  • দলিল নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন বা সম্পাদন স্বীকার।

তবে একটি সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কাউকে আইনজীবী হিসেবে আদালতে মামলা পরিচালনার অধিকার দেয় না। আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার জন্য প্রচলিত আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হতে হয়।

পাওয়ারগ্রহীতা কি ইচ্ছামতো সব কাজ করতে পারেন?

না। পাওয়ারগ্রহীতার ক্ষমতা দলিলের ভাষা ও নির্ধারিত সীমার মধ্যে আবদ্ধ।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৭ অনুযায়ী, বৈধ ক্ষমতার মধ্যে পাওয়ারগ্রহীতার সম্পাদিত কাজ এমনভাবে কার্যকর হবে, যেন কাজটি পাওয়ারদাতা নিজেই করেছেন।

অন্যদিকে, Contract Act, 1872 (নতুন ট্যাবে খুলবে)-এর ধারা ২২৭ ও ২২৮ অনুযায়ী—

  • ক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ থেকে অনুমোদিত অংশ পৃথক করা গেলে কেবল অনুমোদিত অংশ পাওয়ারদাতাকে বাধ্য করতে পারে;
  • অনুমোদিত ও অননুমোদিত অংশ পৃথক করা সম্ভব না হলে পাওয়ারদাতা পুরো লেনদেন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

উদাহরণ

রহিম করিমকে একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া আদায়ের ক্ষমতা দিয়েছেন; কিন্তু বিক্রির ক্ষমতা দেননি। এ অবস্থায় করিম ভাড়া আদায় করতে পারবেন, কিন্তু ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারবেন না।

দলিলে “সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা” লেখা থাকলেই তার মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে “সম্পত্তি বিক্রয়” অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় না।

বাংলাদেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির প্রধান ধরন

১. সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ২(৭) অনুযায়ী, আইনে সংজ্ঞায়িত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ছাড়া অন্য বিষয়ে প্রদত্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হিসেবে গণ্য হয়।

এর মাধ্যমে যেমন ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে:

  • সম্পত্তি দেখাশোনা;
  • ভাড়া আদায়;
  • ইউটিলিটি বিল বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ;
  • ব্যাংক বা সরকারি অফিসের নির্দিষ্ট কাজ;
  • ব্যবসায়িক নথি স্বাক্ষর;
  • আদালত বা দপ্তরে কাগজপত্র দাখিল।

সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিস্তৃত কিংবা খুব সীমিত—দুই ধরনেরই হতে পারে।

২. বিশেষ বা সীমিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি

বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কাজ, দলিল বা লেনদেনের জন্য দেওয়া হয়। যেমন:

  • একটি নির্দিষ্ট দলিল নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন;
  • একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত কাজ;
  • একটি মামলায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর;
  • একটি নির্দিষ্ট সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-তে “বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি” Registration Act, 1908-এর ধারা ৩৩ অনুযায়ী প্রমাণীকরণের জন্য প্রস্তুত দলিল হিসেবে সংজ্ঞায়িত।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুধু “বিশেষ” নাম দেওয়া হলেই দলিলটি সাধারণ প্রকৃতির হয়ে যায় না। যদি এর মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, বিক্রয়চুক্তি, বন্ধক বা আইনে উল্লিখিত অন্য কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়, তবে বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে এটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হিসেবে গণ্য হতে পারে।

৩. অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি

আইনের ধারা ২(৪) অনুযায়ী, নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যে প্রদত্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অন্তর্ভুক্ত:

  • স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে;
  • স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়চুক্তি সম্পাদনের জন্য;
  • ঋণের বিপরীতে স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক দেওয়ার জন্য;
  • স্থাবর সম্পত্তির বিপরীতে পণমূল্য গ্রহণের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট দলিল সম্পাদনের ক্ষমতা দেওয়ার জন্য।

এই ধরনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

শুধু দলিলের শিরোনামে “Irrevocable” বা “অপ্রত্যাহারযোগ্য” লিখলেই তা অপ্রত্যাহারযোগ্য হয়ে যায় না। দলিলের প্রকৃতি নির্ধারিত হয় এর বিষয়বস্তু, লেনদেন এবং প্রদত্ত ক্ষমতার মাধ্যমে।

তুলনামূলক চিত্র
বিষয়সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নিবিশেষ বা সীমিত পাওয়ারঅপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার
ক্ষমতার পরিধিবিস্তৃত বা সীমিতনির্দিষ্ট কাজকেন্দ্রিকআইনের ধারা ২(৪)-এর নির্দিষ্ট লেনদেন
নিবন্ধনব্যবহার ও প্রকৃতি অনুযায়ীব্যবহার ও প্রকৃতি অনুযায়ীবাধ্যতামূলক
বাতিল৩০ দিনের নোটিশে সম্ভবসাধারণত ৩০ দিনের নোটিশেবিশেষ শর্ত ও পদ্ধতিতে
ঝুঁকিবিস্তৃত হলে বেশিতুলনামূলক কমসম্পত্তিসংক্রান্ত হওয়ায় অধিক
উদাহরণভাড়া ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনানির্দিষ্ট দলিল দাখিলজমি বিক্রি বা ডেভেলপমেন্ট
পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে কোন ক্ষমতা দেওয়া যায় না?

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫ (নতুন ট্যাবে খুলবে)-এর বিধি ৪ অনুযায়ী পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে নিম্নোক্ত ক্ষমতা দেওয়া যাবে না:

  1. উইল সম্পাদন বা পাওয়ারদাতার সম্পাদিত উইল নিবন্ধনের জন্য দাখিল;
  2. দত্তক গ্রহণের ক্ষমতাপত্র সম্পাদন বা নিবন্ধনের জন্য দাখিল;
  3. দান বা হেবা সম্পর্কিত ঘোষণা সম্পাদন;
  4. ট্রাস্ট দলিল সম্পাদন;
  5. সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশে নিষিদ্ধ অন্য কোনো দলিল বা কার্য সম্পাদন।

সুতরাং, “সব কাজ করার পূর্ণ ক্ষমতা” জাতীয় ভাষা ব্যবহার করলেও আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কোনো কাজ বৈধ হয়ে যায় না।

কে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে এবং গ্রহণ করতে পারেন?

Contract Act, 1872 (নতুন ট্যাবে খুলবে)-এর ধারা ১৮৩ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্কের ব্যক্তি একজন এজেন্ট নিয়োগ করতে পারেন।

পাওয়ারদাতার অবশ্যই—

  • আইনগতভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে;
  • দলিলের প্রকৃতি ও পরিণতি বোঝার সক্ষমতা থাকতে হবে;
  • স্বেচ্ছায় ক্ষমতা প্রদান করতে হবে;
  • প্রতারণা, জবরদস্তি বা অযাচিত প্রভাবমুক্ত সম্মতি দিতে হবে।

ধারা ১৮৪ অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তি এজেন্ট হতে পারলেও, পাওয়ারদাতার নিকট আইনগতভাবে দায়বদ্ধ হওয়ার জন্য পাওয়ারগ্রহীতার প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বাস্তবে সবসময় একজন প্রাপ্তবয়স্ক, বিশ্বস্ত, সক্ষম এবং আর্থিকভাবে জবাবদিহি করতে সক্ষম ব্যক্তিকে পাওয়ারগ্রহীতা হিসেবে নিয়োগ করা উচিত।

পাওয়ারগ্রহীতার আইনগত দায়িত্ব

পাওয়ারগ্রহীতা কেবল ক্ষমতার অধিকারী নন; তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও রয়েছে।

Contract Act, 1872-এর ধারা ২১১–২১৬ অনুযায়ী পাওয়ারগ্রহীতাকে সাধারণত—

  • পাওয়ারদাতার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে;
  • যুক্তিসংগত দক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে;
  • পাওয়ারদাতার চাহিদা অনুযায়ী যথাযথ হিসাব দিতে হবে;
  • জটিলতা দেখা দিলে পাওয়ারদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে;
  • গোপনে নিজের স্বার্থে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে;
  • পাওয়ারদাতার অজ্ঞাতে অর্জিত ব্যক্তিগত সুবিধার হিসাব দিতে হবে।

স্বার্থের সংঘাতের উদাহরণ

পাওয়ারদাতা একটি জমি বিক্রির জন্য পাওয়ারগ্রহীতাকে নিয়োগ করলেন। পাওয়ারগ্রহীতা প্রকৃত বাজারমূল্য গোপন করে নিজের নিয়ন্ত্রিত অন্য ব্যক্তির নামে কম দামে জমি কিনে নিলেন।

এ ধরনের লেনদেন প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বার্থের সংঘাত হিসেবে চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে।

বৈধ পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে কী কী থাকা উচিত?

একটি পেশাগতভাবে প্রস্তুত পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকা উচিত:

  1. পাওয়ারদাতা ও পাওয়ারগ্রহীতার পূর্ণ নাম;
  2. পিতা-মাতা বা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়;
  3. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা;
  4. NID, পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য;
  5. উভয় পক্ষের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি;
  6. পাওয়ারদাতার উদ্দেশ্য;
  7. ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট বিবরণ;
  8. ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা;
  9. ক্ষমতা প্রয়োগের সময়সীমা;
  10. একাধিক পাওয়ারগ্রহীতা থাকলে তারা যৌথভাবে নাকি পৃথকভাবে কাজ করবেন;
  11. আর্থিক লেনদেন ও টাকা গ্রহণের নিয়ম;
  12. সম্পত্তির পূর্ণ তফসিল ও পরিচয়;
  13. বিক্রয়মূল্য গ্রহণের অনুমোদিত পদ্ধতি;
  14. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে Registration Act-এর ধারা ৫২এ-সংক্রান্ত তথ্য;
  15. বাতিল বা দায়িত্ব পরিত্যাগের পদ্ধতি;
  16. পাওয়ারগ্রহীতা অন্য কাউকে ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবেন কি না;
  17. প্রয়োজনীয় সাক্ষী, স্বাক্ষর ও টিপসই।

ক্ষমতা প্রদানের ভাষা যত স্পষ্ট হবে, ভবিষ্যৎ বিরোধের ঝুঁকি তত কমবে।

পাওয়ারগ্রহীতা কি নিজের ক্ষমতা অন্য কাউকে দিতে পারেন?

সাধারণ নিয়মে পারেন না।

Contract Act, 1872-এর ধারা ১৯০ অনুযায়ী, কোনো এজেন্ট তার ব্যক্তিগতভাবে সম্পাদনের দায়িত্ব নেওয়া কাজ অন্য কাউকে দিতে পারেন না—যদি না:

  • মূল দলিলে পুনরায় ক্ষমতা অর্পণের অনুমতি থাকে;
  • সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় প্রচলিত রীতি তা অনুমোদন করে; অথবা
  • কাজের প্রকৃতির কারণে সাব-এজেন্ট নিয়োগ প্রয়োজন হয়।

অতএব, প্রয়োজন ছাড়া “sub-delegation” বা অন্য কাউকে ক্ষমতা দেওয়ার অধিকার রাখা উচিত নয়।

বাংলাদেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তৈরির ধাপ

ধাপ ১: কাজ ও প্রয়োজন নির্ধারণ

প্রথমে ঠিক করতে হবে পাওয়ারগ্রহীতা কোন কাজটি করবেন।

একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য সীমিত ক্ষমতা যথেষ্ট হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া উচিত নয়।

ধাপ ২: পরিচয় ও সম্পত্তির কাগজপত্র যাচাই

প্রয়োজন হতে পারে:

  • NID বা পাসপোর্ট;
  • জন্মনিবন্ধন;
  • সাম্প্রতিক ছবি;
  • খতিয়ান;
  • নামজারি বা মিউটেশন;
  • মূল দলিল ও পূর্ববর্তী বায়া দলিল;
  • ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ;
  • ফ্ল্যাট বা ভবনের অনুমোদন;
  • হোল্ডিং বা সম্পত্তির তথ্য;
  • ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র;
  • কোম্পানির ক্ষেত্রে বোর্ড রেজল্যুশন ও সাংগঠনিক দলিল।

ধাপ ৩: আইনগতভাবে সুনির্দিষ্ট খসড়া প্রস্তুত

প্রতিটি ক্ষমতা আলাদাভাবে এবং পরিষ্কার ভাষায় লিখতে হবে। যেমন:

  • বিক্রয়চুক্তি করতে পারবেন কি না;
  • চূড়ান্ত বিক্রয় দলিল সম্পাদন করতে পারবেন কি না;
  • কত মূল্যের নিচে বিক্রি করতে পারবেন না;
  • বিক্রয়মূল্য নগদে নাকি ব্যাংক হিসাবে গ্রহণ করতে হবে;
  • দখল হস্তান্তর করতে পারবেন কি না;
  • টাকা পাওয়ারদাতার নির্ধারিত হিসাবে জমা দিতে হবে কি না।

ধাপ ৪: যথাযথ স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ

বাংলাদেশে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং এর প্রতিলিপিতে Stamp Act, 1899 (নতুন ট্যাবে খুলবে)-এর তফসিলের প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী স্ট্যাম্প শুল্ক দিতে হয়।

স্ট্যাম্প শুল্ক নির্ভর করতে পারে—

  • ক্ষমতার প্রকৃতি;
  • পাওয়ারদাতা ও পাওয়ারগ্রহীতার সংখ্যা;
  • একাধিক পৃথক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি না;
  • পণমূল্য বা আর্থিক বিবেচনা রয়েছে কি না;
  • সম্পত্তি উন্নয়ন, বিক্রয় বা বন্ধকের বিষয় রয়েছে কি না।

শুধু ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের মূল্য দিয়ে দলিলের আইনগত প্রকৃতি নির্ধারিত হয় না। দলিলের বিষয়বস্তুই এর প্রকৃতি নির্ধারণ করে।

ধাপ ৫: প্রমাণীকরণ বা নিবন্ধন

পাওয়ার অব অ্যাটর্নির প্রকৃতি ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে—

  • উপযুক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রমাণীকরণ;
  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন;
  • অথবা উভয় প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে।
সব সম্পত্তিসংক্রান্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কি নিবন্ধন করতে হয়?

না—আইনে এমন কোনো সরল ও সর্বজনীন বিধান নেই যে, স্থাবর সম্পত্তির উল্লেখ থাকলেই প্রত্যেক পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে।

তবে:

নিবন্ধন বাধ্যতামূলক যেখানে

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী, আইনে সংজ্ঞায়িত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

দলিল নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন যেখানে

Registration Act, 1908 (নতুন ট্যাবে খুলবে)-এর ধারা ৩২ অনুযায়ী কোনো এজেন্ট দলিল নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করলে তাকে ধারা ৩৩ অনুযায়ী যথাযথভাবে সম্পাদিত ও প্রমাণীকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হতে হবে।

অতএব, “নিবন্ধিত”, “প্রমাণীকৃত” এবং “নোটারি করা”—তিনটি এক বিষয় নয়।

প্রতিটি ক্ষেত্রে দলিলের উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের ভিত্তিতে সঠিক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে হবে।

শুধু নোটারি করলেই কি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বৈধ?

সব ক্ষেত্রে নয়।

নোটারি পাবলিক কর্তৃক সত্যায়ন কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রমাণীকরণের অংশ হতে পারে। কিন্তু নোটারি—

  • বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিকল্প নয়;
  • প্রযোজ্য স্ট্যাম্প শুল্কের বিকল্প নয়;
  • বিদেশে সম্পাদিত দলিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়;
  • Registration Act-এর ধারা ৩৩ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণীকরণের বিকল্প নাও হতে পারে।

বিশেষ করে জমি বিক্রি, বন্ধক বা ভূমি উন্নয়নসংক্রান্ত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে শুধু নোটারি করা যথেষ্ট নয়।

প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি কীভাবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করবেন?

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে বিদেশে সম্পাদিত দলিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরম ও সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ধাপ ১: নির্ধারিত ফরমে দলিল প্রস্তুত

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর তফসিল ‘ক’-এর ফরম-৩ অনুসরণ করে দলিলটি মূল ও প্রতিলিপি—দুই প্রস্থে প্রস্তুত করতে হয়।

ধাপ ২: ছবি ও পরিচয় সংযুক্ত

সাধারণত সংযুক্ত করতে হবে:

  • পাওয়ারদাতার সাম্প্রতিক রঙিন ছবি;
  • পাওয়ারগ্রহীতার সাম্প্রতিক রঙিন ছবি;
  • পাসপোর্ট, NID বা জন্মনিবন্ধনের প্রাসঙ্গিক কপি;
  • সম্পত্তি বা লেনদেনের কাগজপত্র।

পাওয়ারদাতাকে পাওয়ারগ্রহীতার ছবি সনাক্ত করে স্বাক্ষর করতে হয়।

ধাপ ৩: উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সামনে সম্পাদন

Registration Act, 1908-এর ধারা ৩৩(১)(গ) অনুযায়ী, বাংলাদেশের বাইরে বসবাসরত পাওয়ারদাতার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিম্নোক্ত কর্তৃপক্ষের সামনে সম্পাদিত ও প্রমাণীকৃত হতে পারে:

  • Notary Public;
  • কোনো আদালত;
  • বিচারক;
  • ম্যাজিস্ট্রেট;
  • বাংলাদেশের কনসাল বা ভাইস-কনসাল;
  • সরকারের অনুমোদিত প্রতিনিধি।

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের নিজস্ব কনস্যুলার চেকলিস্ট, সাক্ষাৎকার, উপস্থিতি ও ফি-সংক্রান্ত নিয়ম থাকতে পারে। দলিল প্রস্তুতের আগে সংশ্লিষ্ট মিশনের বর্তমান নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

প্রবাসীদের জন্য ২০২৫ সালের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে এস.আর.ও. নং ৫৪-আইন/২০২৫ দ্বারা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫ সংশোধন করা হয়।

সরকারি গেজেটের সংশোধনী দেখুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসীদের পরিচয় যাচাইয়ে আগের তুলনায় বিস্তৃত সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে এখন ব্যবহার করা যেতে পারে:

  • বাংলাদেশি পাসপোর্ট;
  • বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির NVR বা “No Visa Required” স্টিকারযুক্ত বিদেশি পাসপোর্ট;
  • জাতীয় পরিচয়পত্র;
  • জন্মনিবন্ধন সনদ।

এছাড়া, বিদেশে প্রমাণীকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও এর প্রতিলিপি প্রমাণীকরণের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে

এটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকা অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

বিদেশে সম্পাদিত দলিল বাংলাদেশে আসার পর সময়সীমা

বিদেশে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাংলাদেশে প্রথম প্রবেশের পর পাওয়ারগ্রহীতাকে সাধারণত নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে:

করণীয়সময়সীমা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা অনুমোদিত কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়নপ্রথম প্রবেশের দুই মাসের মধ্যে
প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ বা স্ট্যাম্পযুক্তকরণপ্রথম প্রবেশের তিন মাসের মধ্যে
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে নিবন্ধনের জন্য দাখিলপ্রথম প্রবেশের চার মাসের মধ্যে

এখানে “বাংলাদেশে প্রথম প্রবেশ” বলতে দলিলটি প্রথম বাংলাদেশে পৌঁছানোর সময় বোঝায়। তাই কুরিয়ার রসিদ, ডাকের খাম, ট্র্যাকিং রেকর্ড ও প্রাপ্তির তারিখ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

নির্ধারিত সময় পার হলে দলিলটি ব্যবহার, স্ট্যাম্পিং বা নিবন্ধনে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে থেকে তারিখ পরিবর্তন বা নতুন কাগজ সংযোজন না করে আইনগত পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা নোট: Registration (Amendment) Act, 2026 দ্বারা বিদেশে সম্পাদিত দলিল গ্রহণের জন্য Registration Act-এর ধারা ২৬-এর সময়সীমা বাংলাদেশে আসার পর চার মাস থেকে ছয় মাস করা হয়েছে। তবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০(৫)(গ)-এ প্রযোজ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিবন্ধনের জন্য এখনো চার মাস উল্লেখ আছে। বিধিমালা সংশোধন বা কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কম ঝুঁকির পথ হলো চার মাসের সংক্ষিপ্ত সময়সীমা মেনে চলা।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রক্রিয়া: এক নজরে

নির্ধারণ

সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা, সীমা, সম্পত্তি ও মেয়াদ লিখুন

যাচাই

পরিচয়, সক্ষমতা, মালিকানা ও সহায়ক নথি পরীক্ষা করুন

আনুষ্ঠানিকতা

প্রযোজ্য প্রমাণীকরণ, স্ট্যাম্পিং ও নিবন্ধন সম্পন্ন করুন

নিয়ন্ত্রণ

কপি, অর্থ, হিসাব, মেয়াদ ও বাতিলের তথ্য নিরাপদে রাখুন

এটি একটি ব্যবহারিক সারসংক্ষেপ। দলিলের ধরন, লেনদেন ও সম্পাদনের স্থান অনুযায়ী সঠিক আনুষ্ঠানিকতা নির্ধারণ করতে হবে।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কি সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করে?

না।

Transfer of Property Act, 1882 (নতুন ট্যাবে খুলবে)-এর ধারা ৫৪ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা বিক্রয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে নিবন্ধিত বিক্রয় দলিল প্রয়োজন।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কেবল পাওয়ারগ্রহীতাকে মালিকের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল সম্পাদন বা অন্য অনুমোদিত কাজ করার ক্ষমতা দেয়। পাওয়ারগ্রহীতা শুধু পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কারণে সম্পত্তির মালিক হয়ে যান না।

উদাহরণ

একজন প্রবাসী তার ভাইকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষমতা দিলেন। নিবন্ধিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে ভাইটি ক্রেতার অনুকূলে বিক্রয় দলিল সম্পাদন করতে পারেন।

কিন্তু পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদনের দিন থেকেই ভাইটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে যান না। মালিকানা ক্রেতার নিকট যাবে বৈধ ও নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে।

একাধিক পাওয়ারগ্রহীতা নিয়োগ করা যায় কি?

হ্যাঁ। তবে দলিলে অবশ্যই স্পষ্ট করতে হবে তারা—

  • সবাই যৌথভাবে কাজ করবেন;
  • প্রত্যেকে পৃথকভাবে কাজ করতে পারবেন; নাকি
  • কিছু কাজ যৌথভাবে এবং কিছু কাজ পৃথকভাবে করবেন।

অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে একাধিক পাওয়ারগ্রহীতা থাকলে, আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী একজনের মৃত্যুতে দলিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না; অবশিষ্ট পাওয়ারগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর থাকতে পারে।

পাওয়ারদাতা বা পাওয়ারগ্রহীতার মৃত্যু হলে কী হবে?

এ বিষয়ে “মৃত্যু হলেই সব পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল”—এমন বক্তব্য সঠিক নয়।

সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে

আইনের ধারা ১১(১)(ঘ) অনুযায়ী, সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতা—

  • মৃত্যুবরণ করলে;
  • দেউলিয়া হলে;
  • অপ্রকৃতিস্থ হলে; অথবা
  • আইনগত সত্তার বিলুপ্তি ঘটলে—

সাধারণত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অবসান ঘটে।

Contract Act-এর ধারা ২০১-এও সাধারণ এজেন্সি উভয় পক্ষের মৃত্যু বা মানসিক অক্ষমতায় অবসানের বিধান রয়েছে।

অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে

আইনের ধারা ৪(৬) অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পাওয়ারদাতা বা পাওয়ারগ্রহীতার মৃত্যু বা আইনগত অক্ষমতা দেখা দিলে দলিল থেকে উদ্ভূত অধিকার ও দায় বৈধ ওয়ারিশ বা স্থলবর্তীর ওপর যেতে পারে।

তবে একক পাওয়ারগ্রহীতা এবং একাধিক পাওয়ারগ্রহীতার ক্ষেত্রে আইনের ধারা ৯-সহ অন্যান্য বিধান বিবেচনা করতে হবে।

অতএব, মৃত্যু-পরবর্তী কার্যকারিতা নির্ধারণে দলিলের প্রকৃতি, পাওয়ারগ্রহীতার সংখ্যা, লেনদেন এবং আইনের বিশেষ বিধান পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কীভাবে বাতিল করবেন?

আইনের ধারা ১১(২) অনুযায়ী, সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করতে পাওয়ারদাতাকে সাধারণত পাওয়ারগ্রহীতার কাছে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হয়।

বাতিলের ক্ষেত্রে করণীয়:

  1. মূল দলিল ও এর শর্ত পরীক্ষা করুন;
  2. আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত বাতিল নোটিশ প্রস্তুত করুন;
  3. রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাওয়ারগ্রহীতাকে পাঠান;
  4. মূল দলিল নিবন্ধিত হলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাতিলের দলিল বা নোটিশ নথিভুক্ত করুন;
  5. ব্যাংক, ভূমি অফিস, RAJUK, ডেভেলপার, ভাড়াটিয়া বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানান;
  6. প্রয়োজন হলে সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করুন;
  7. ডাক রসিদ, প্রাপ্তিস্বীকার ও নোটিশের কপি সংরক্ষণ করুন;
  8. পাওয়ারগ্রহীতার কাছে থাকা মূল বা সত্যায়িত কপি ফেরত চান।

নোটিশ জারির আগে পাওয়ারগ্রহীতার বৈধভাবে সম্পাদিত কাজগুলো সাধারণত বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

Contract Act-এর ধারা ২০৮ অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষ বাতিলের বিষয়টি না জানা পর্যন্ত কোনো কোনো লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই শুধু পাওয়ারগ্রহীতাকে নোটিশ না দিয়ে সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষকেও অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কি বাতিল করা যায়?

“অপ্রত্যাহারযোগ্য” মানে কোনো অবস্থাতেই বাতিল করা যাবে না—এমন নয়।

আইনের ধারা ৪(৩) অনুযায়ী—

  • দলিলের উদ্দেশ্য বা শর্ত ব্যাহত হলে; অথবা
  • কোনো পক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন হলে—

পাওয়ারদাতা বা পাওয়ারগ্রহীতা ৩০ দিনের রেজিস্টার্ড নোটিশের মাধ্যমে ক্ষমতার অবসানের উদ্যোগ নিতে পারেন। নোটিশের একটি কপি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পাঠাতে হবে।

এ ধরনের নোটিশ জারি হলে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত দলিলের কার্যকারিতা স্থগিত থাকতে পারে। বিরোধ সৃষ্টি হলে ধারা ১৩-এর নির্ধারিত নিষ্পত্তি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

জালিয়াতি, প্রতারণা, জবরদস্তি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুয়া পরিচয় বা মালিকানার অভাব থাকলে আদালতের প্রতিকারও প্রয়োজন হতে পারে।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি থেকে বিরোধ সৃষ্টি হলে কী করবেন?

আইনের ধারা ১৩ অনুযায়ী নিবন্ধিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি থেকে বিরোধ সৃষ্টি হলে সাধারণত ধাপগুলো হলো:

  1. পক্ষগণ প্রথমে নিজেদের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করবেন;
  2. তা ব্যর্থ হলে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য নোটিশ দিতে হবে;
  3. নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যৌথভাবে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে;
  4. মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হলে উপযুক্ত আদালতে মামলা করা যেতে পারে।

বিরোধের প্রকৃতি অনুযায়ী আরও যেসব প্রতিকার প্রযোজ্য হতে পারে:

  • ঘোষণামূলক মামলা;
  • দলিল বাতিলের মামলা;
  • অস্থায়ী বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা;
  • হিসাব প্রদানের দাবি;
  • অর্থ পুনরুদ্ধার;
  • ক্ষতিপূরণ;
  • প্রতারণা বা জালিয়াতির ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা।
কখন পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অবসান ঘটে?

আইনের ধারা ১১ অনুযায়ী পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অবসান ঘটতে পারে যখন—

  • নির্দিষ্ট কাজটি সম্পন্ন হয়ে যায়;
  • নির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জিত হয়;
  • দলিলের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়;
  • দলিলের বিষয়বস্তু বিনষ্ট বা বিলুপ্ত হয়;
  • সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতা মারা যান;
  • পাওয়ারদাতা দেউলিয়া বা অপ্রকৃতিস্থ হন;
  • পাওয়ারদাতার আইনগত সত্তা বিলুপ্ত হয়;
  • বৈধ নোটিশের মাধ্যমে ক্ষমতা বাতিল করা হয়;
  • পাওয়ারগ্রহীতা ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব পরিত্যাগ করেন।

তবে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে মৃত্যু, মেয়াদ ও অবসানের বিশেষ বিধান আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

বাস্তব উদাহরণ

উদাহরণ ১: শুধু ভাড়া আদায়ের ক্ষমতা

একজন মা তার ছেলেকে বাড়ির ভাড়া আদায়, মেরামত ও কর পরিশোধের ক্ষমতা দিলেন। বিক্রির ক্ষমতা দিলেন না।

এক্ষেত্রে ছেলে বাড়িটি পরিচালনা করতে পারবে, কিন্তু বিক্রি বা বন্ধক দিতে পারবে না।

উদাহরণ ২: প্রবাসীর জমি বিক্রয়

যুক্তরাজ্যে থাকা একজন বাংলাদেশি তার ভাইকে একটি নির্দিষ্ট জমি বিক্রির ক্ষমতা দিলেন।

যেহেতু ক্ষমতাটি স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য, এটি আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে।

উদাহরণ ৩: ডেভেলপারের সঙ্গে ভূমি উন্নয়ন

জমির মালিক একটি ডেভেলপার কোম্পানিকে নির্দিষ্ট মেয়াদে ভবন নির্মাণ ও ডেভেলপারের অংশের ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষমতা দিলেন।

আইনের ধারা ৪(২) অনুযায়ী, উন্নয়নের মেয়াদ শেষ হলেও পাওয়ারগ্রহীতার নিজ অংশ বিক্রয় বা সংশ্লিষ্ট বন্ধকী দলিল সম্পাদনের অব্যবহৃত ক্ষমতা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বহাল থাকতে পারে।

উদাহরণ ৪: বিদেশে দলিল সম্পাদনের পর বিলম্ব

একজন প্রবাসী দূতাবাসে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করলেও দলিলটি দীর্ঘদিন বিদেশে রেখে দিলেন। পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে সময়মতো সত্যায়ন, স্ট্যাম্পিং ও নিবন্ধন করা হয়নি।

এক্ষেত্রে দলিল ব্যবহার বা নিবন্ধনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। শুধু দূতাবাসের সিল থাকলেই বাংলাদেশে পরবর্তী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে—এমন মনে করা ঠিক নয়।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার আগে নিরাপত্তামূলক চেকলিস্ট

ক্ষমতা সীমিত করুন

একটি কাজের জন্য প্রয়োজন হলে একটি কাজের ক্ষমতাই দিন।

সম্পত্তি সুনির্দিষ্ট করুন

মৌজা, খতিয়ান, দাগ, পরিমাণ, দলিল নম্বর, ঠিকানা ও সীমানা উল্লেখ করুন।

বিক্রয়মূল্যের ন্যূনতম সীমা দিন

প্রয়োজনে উল্লেখ করুন নির্দিষ্ট মূল্যের নিচে বিক্রি করা যাবে না।

নগদ অর্থ গ্রহণ সীমিত করুন

বিক্রয়মূল্য সরাসরি পাওয়ারদাতার ব্যাংক হিসাবে পরিশোধের শর্ত দেওয়া যেতে পারে।

নিজের কাছে বিক্রি নিষিদ্ধ করুন

পাওয়ারগ্রহীতা নিজে বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন কি না—স্পষ্ট করুন।

মেয়াদ নির্ধারণ করুন

অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনির্দিষ্ট মেয়াদের ক্ষমতা দেওয়া এড়িয়ে চলুন।

হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখুন

প্রাপ্ত অর্থ, ব্যয় ও সম্পাদিত কাজের লিখিত হিসাব দেওয়ার শর্ত দিন।

পুনরায় ক্ষমতা অর্পণ নিয়ন্ত্রণ করুন

প্রয়োজন ছাড়া সাব-পাওয়ার বা অন্য কাউকে ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ রাখবেন না।

যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখুন

বড় সিদ্ধান্তের আগে লিখিত সম্মতি, ই-মেইল বা ভিডিও কনফারেন্সে অনুমোদনের শর্ত দেওয়া যেতে পারে।

দলিলের সত্যায়িত কপি সংরক্ষণ করুন

মূল দলিল কোথায় রয়েছে এবং কতগুলো কপি দেওয়া হয়েছে তার রেকর্ড রাখুন।

সাধারণ ভুলগুলো
  • নমুনা দলিল কপি করে ব্যবহার করা;
  • “সব ধরনের কাজ করার পূর্ণ ক্ষমতা” লেখা;
  • সম্পত্তির তফসিল অসম্পূর্ণ রাখা;
  • বিক্রয়মূল্য গ্রহণের পদ্ধতি না লেখা;
  • দলিলের মেয়াদ উল্লেখ না করা;
  • পাওয়ারগ্রহীতার স্বার্থের সংঘাত বিবেচনা না করা;
  • বিদেশে সম্পাদিত দলিলের সময়সীমা না মানা;
  • নোটারি এবং নিবন্ধনকে একই বিষয় মনে করা;
  • অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নিকে কখনো বাতিল করা যায় না মনে করা;
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নিকে মালিকানা দলিল হিসেবে বিবেচনা করা;
  • বাতিল করার পর ব্যাংক, ভূমি অফিস বা অন্য পক্ষকে না জানানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. বাংলাদেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মূল আইন কোনটি?

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে Registration Act, Stamp Act, Contract Act এবং Transfer of Property Act-ও বিবেচ্য।

২. সব পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কি নিবন্ধন করতে হয়?

না। তবে আইনে সংজ্ঞায়িত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। অন্য দলিলের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও ব্যবহার অনুযায়ী প্রমাণীকরণ বা নিবন্ধন প্রয়োজন হতে পারে।

৩. শুধু নোটারি করলেই কি জমি বিক্রি করা যাবে?

না। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা আইনে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং এর নিবন্ধনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে।

৪. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কি মালিকানা দেয়?

না। এটি কেবল নির্ধারিত কাজ করার ক্ষমতা দেয়। সম্পত্তির মালিকানা বৈধ নিবন্ধিত হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়।

৫. প্রবাসী বাংলাদেশি কি বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করতে পারেন?

হ্যাঁ। নির্ধারিত ফরমে দলিল প্রস্তুত, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সামনে সম্পাদন এবং বাংলাদেশে আসার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সত্যায়ন, স্ট্যাম্পিং ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিবন্ধন করতে হবে।

৬. বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকলে কী হবে?

২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে NVR-যুক্ত বিদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কীভাবে বাতিল করা যায়?

সাধারণত পাওয়ারগ্রহীতাকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে। নিবন্ধিত দলিল হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিস এবং অন্যান্য তৃতীয় পক্ষকে অবহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৮. অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কি বাতিল করা যায়?

বিশেষ পরিস্থিতিতে যায়। উদ্দেশ্য বা শর্ত ব্যাহত হওয়া, ক্ষতি, প্রতারণা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নোটিশ, বিরোধ নিষ্পত্তি বা আদালতের প্রতিকার প্রয়োজন হতে পারে।

৯. পাওয়ারদাতা মারা গেলে কি দলিল বাতিল হয়?

সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে সাধারণত হয়। তবে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে অধিকার ও দায় ওয়ারিশ বা স্থলবর্তীর ওপর যেতে পারে।

১০. একাধিক পাওয়ারগ্রহীতা রাখা যায়?

হ্যাঁ। তারা যৌথভাবে না পৃথকভাবে কাজ করবেন, তা দলিলে স্পষ্ট করতে হবে।

১১. পাওয়ারগ্রহীতা কি অন্য কাউকে ক্ষমতা দিতে পারেন?

দলিলে অনুমতি, ব্যবসায়িক প্রথা বা কাজের প্রকৃতিগত প্রয়োজন না থাকলে সাধারণত পারেন না।

১২. ব্যাংক কি সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করতে বাধ্য?

সব ক্ষেত্রে নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব KYC, নির্ধারিত ফরম, অনুমোদন এবং ঝুঁকি যাচাইয়ের শর্ত আরোপ করতে পারে।

১৩. পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকা কি বাধ্যতামূলক?

সব সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির জন্য নয়। তবে কাজ ও ঝুঁকির ভিত্তিতে মেয়াদ উল্লেখ করা নিরাপদ। পণমূল্যের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়নসংক্রান্ত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকতে হয়।

১৪. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে বিরোধ হলে সরাসরি মামলা করা যাবে?

নিবন্ধিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি থেকে বিরোধ সৃষ্টি হলে আইনের ধারা ১৩ অনুযায়ী প্রথমে আপস এবং পরে মধ্যস্থতার নির্ধারিত প্রক্রিয়া প্রাসঙ্গিক হতে পারে। মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হলে উপযুক্ত আদালতে মামলা করা যায়।

Roy Law Nexus কীভাবে সহায়তা করতে পারে?

একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির খসড়া দেখতে সাধারণ মনে হলেও ভুল ক্ষমতা, অসম্পূর্ণ সম্পত্তির তফসিল, স্ট্যাম্পের ত্রুটি, বিদেশে সম্পাদনের সময়সীমা বা নিবন্ধনের ভুল ভবিষ্যতে গুরুতর সম্পত্তি ও আর্থিক বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।

Roy Law Nexus—Legal & Tax Solutions নিম্নোক্ত বিষয়ে পেশাগত সহায়তা প্রদান করে:

  • সাধারণ, বিশেষ ও অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির খসড়া প্রস্তুত;
  • বিদ্যমান দলিলের আইনগত পর্যালোচনা;
  • জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসায়িক ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ;
  • প্রবাসী ও NRB-দের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রস্তুত;
  • দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্ট্যাম্পিং ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সহায়তা;
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল ও নোটিশ প্রস্তুত;
  • জালিয়াতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা;
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি থেকে উদ্ভূত বিরোধে মধ্যস্থতা ও মামলা পরিচালনা।

যোগাযোগ

স্বদীপ রায় সজীব এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সদস্য, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশন

মোবাইল: +৮৮০ ১৭১৪-২৯১২৯৪ ই-মেইল: sawdip@gmail.com ওয়েবসাইট: www.roylawnexus.com (নতুন ট্যাবে খুলবে)

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিষয়ে পরামর্শ করুন →
প্রাথমিক আইনগত উৎস

লেখক পরিচিতি

স্বদীপ রায় সজীব

স্বদীপ রায় সজীব

এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

সদস্য, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশন

+880 1714-291294|sawdip@gmail.com

আইনি ঘোষণা: এই নিবন্ধটি পর্যালোচনার তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি উপকরণের ভিত্তিতে সাধারণ আইনগত তথ্য দেয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দলিল বা লেনদেনের জন্য স্বতন্ত্র আইনি মতামত নয় এবং এটি পড়ার মাধ্যমে আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না। পদক্ষেপের আগে প্রযোজ্য আইন, সরকারি প্রক্রিয়া ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা উচিত।