সংক্ষিপ্ত সারাংশ
অর্থ আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন ব্যক্তি করদাতা, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কোম্পানি, অংশীদারি ফার্ম, উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠান, জমির মালিক, ডেভেলপার এবং বাংলাদেশে ব্যবসা করা অনাবাসী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের আয়করের প্রধান আইন হলো আয়কর আইন, ২০২৩, যা অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত হয়েছে। এর সঙ্গে উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রজ্ঞাপন, বিশেষ আদেশ, সাধারণ আদেশ এবং প্রযোজ্য দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
সরকারি আইন ও বিধিমালা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর আইন (নতুন ট্যাবে খুলবে), অর্থ আইন (নতুন ট্যাবে খুলবে) এবং আয়কর বিধিমালা (নতুন ট্যাবে খুলবে) বিভাগে পাওয়া যাবে।
অর্থ আইন ২০২৬-এর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো:
- সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।
- করমুক্ত সীমার পর আগের ৫% করের ধাপ বাতিল হয়েছে। প্রথম করযোগ্য ধাপের হার এখন ১০%।
- ব্যক্তি করদাতাদের জন্য কয়েক বছর মেয়াদি আয়কর হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
- অধিকাংশ ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আগে দাখিল করলে কর রেয়াত এবং দেরিতে দাখিল করলে অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে।
- করবর্ষ ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ পর্যন্ত কোম্পানি করহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
- উৎসে কর রিটার্ন সাধারণভাবে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দাখিল করতে হবে।
- প্রাপক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বা PSR না দিলে উৎসে করের হার ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
- অতিরিক্ত কর্তিত, সংগৃহীত বা পরিশোধিত কর রিফান্ড অথবা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
- আয়কর আপিলের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিশোধযোগ্য অর্থের হার পরিবর্তন করা হয়েছে।
- অনাবাসী প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল কার্যক্রমকেও নির্দিষ্ট শর্তে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান বা Permanent Establishment হিসেবে বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
- ডেভেলপারের কাছ থেকে জমির মালিকের পাওয়া টাকা, ফ্ল্যাট বা অন্য সুবিধার ওপর বিশেষ মূলধনি মুনাফা করের বিধান করা হয়েছে।
বিস্তারিত জানতে প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর ক্লিক করুন
আয়বর্ষ ও করবর্ষের পার্থক্য
সাধারণ ব্যক্তি ও অধিকাংশ ব্যবসার আয়বর্ষ হলো ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।
উদাহরণ হিসেবে, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত আয় সাধারণভাবে করবর্ষ ২০২৬–২৭-এ নির্ধারিত হবে।
ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণত পঞ্জিকাবর্ষ অনুসরণ করে। কোনো বিদেশি কোম্পানির বাংলাদেশি সাবসিডিয়ারি বা শাখা নির্দিষ্ট শর্তে মূল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভিন্ন আয়বর্ষ অনুসরণের অনুমতি চাইতে পারে।
রিটার্ন প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ ও করবর্ষ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যক্তি করদাতার আয়কর
করবর্ষ ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮-এর করমুক্ত আয়সীমা
| করদাতার ধরন | করমুক্ত আয়সীমা |
|---|---|
| সাধারণ ব্যক্তি করদাতা | ৪,০০,০০০ টাকা |
| মহিলা করদাতা বা ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব করদাতা | ৪,৫০,০০০ টাকা |
| প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতা | ৫,২৫,০০০ টাকা |
| তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা | ৫,২৫,০০০ টাকা |
| গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বা যোগ্য গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা | ৫,৫০,০০০ টাকা |
| প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবক | শর্তসাপেক্ষে অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা |
বিশেষ করমুক্ত সুবিধা দাবি করতে হলে প্রযোজ্য সনদ, গেজেট বা আইনসম্মত প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।
৩ লাখ ৭৫ হাজার নাকি ৪ লাখ টাকা?
প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাবে সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছিল। কিন্তু অর্থ আইন ২০২৬ চূড়ান্তভাবে পাস হওয়ার আগে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়।
তাই করবর্ষ ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮-এর ক্ষেত্রে সাধারণ করদাতার জন্য চূড়ান্ত করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা।
ব্যক্তি করদাতার আয়কর হার
বাংলাদেশি নাগরিক এমন আবাসিক ব্যক্তি অথবা অনাবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে:
| আয়ের ধাপ | করহার |
|---|---|
| প্রযোজ্য করমুক্ত সীমা পর্যন্ত | শূন্য |
| পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা | ১০% |
| পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা | ১৫% |
| পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা | ২০% |
| পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা | ২৫% |
| অবশিষ্ট আয় | ৩০% |
বাংলাদেশি নাগরিক নন—এমন অনাবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ৩০% হারে কর প্রযোজ্য হতে পারে। তবে বিশেষ বিধান বা দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি থাকলে ফল ভিন্ন হতে পারে।
সহজ উদাহরণ
ধরা যাক, একজন সাধারণ আবাসিক করদাতার করযোগ্য আয় ১২ লাখ টাকা।
- প্রথম ৪ লাখ টাকা: কর নেই
- পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ১০%: ৩০,০০০ টাকা
- পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ১৫%: ৬০,০০০ টাকা
- অবশিষ্ট ১ লাখ টাকার ২০%: ২০,০০০ টাকা
অতএব, মোট কর হবে ১,১০,০০০ টাকা।
তবে এটি বিনিয়োগ কর রেয়াত, ন্যূনতম কর, সারচার্জ, উৎসে কর্তিত কর বা অন্য কোনো সমন্বয় বিবেচনার আগের হিসাব।
ভবিষ্যৎ করবর্ষের করমুক্ত সীমা
| করবর্ষ | সাধারণ করমুক্ত সীমা | সর্বোচ্চ করহার |
|---|---|---|
| ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ | ৪,০০,০০০ টাকা | ৩০% |
| ২০২৮–২৯ ও ২০২৯–৩০ | ৪,৫০,০০০ টাকা | ৩৫% |
| ২০৩০–৩১ | ৫,০০,০০০ টাকা | ৩৫% |
পরবর্তী করবর্ষগুলোতে ৩৫% করহার সাধারণভাবে ৩ কোটি টাকার বেশি মোট আয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো অর্থ আইন দ্বারা হার পরিবর্তিত হলে সেই নতুন বিধান প্রযোজ্য হবে।
চাকরি থেকে আয়ের করমুক্ত অংশ
চাকরি থেকে মোট আয়ের:
- এক-তৃতীয়াংশ; অথবা
- ৫ লাখ টাকা—
এই দুটির মধ্যে যেটি কম, সেটি করমুক্ত থাকবে।
চাকরি থেকে আয়ের মধ্যে সাধারণভাবে বেতন, ভাতা, বোনাস, কমিশন, পারকুইজিট, নিয়োগকর্তার দেওয়া সুবিধা, শেয়ারভিত্তিক সুবিধা এবং চাকরি অবসানজনিত কিছু অর্থ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
যোগ্য গ্রুপ ইনস্যুরেন্সের অধীনে পাওয়া নির্দিষ্ট চিকিৎসা সুবিধাও শর্তসাপেক্ষে করমুক্ত হতে পারে।
বিনিয়োগ কর রেয়াত
একজন যোগ্য করদাতার বিনিয়োগ কর রেয়াত সাধারণভাবে নিচের তিনটির মধ্যে সর্বনিম্ন পরিমাণ:
- যোগ্য করযোগ্য আয়ের ৩%;
- অনুমোদিত বিনিয়োগ ও ব্যয়ের ১০%; অথবা
- ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
যোগ্য বিনিয়োগের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে জীবনবিমার প্রিমিয়াম, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, অনুমোদিত সুপারঅ্যানুয়েশন তহবিল, নির্দিষ্ট সিকিউরিটিজ, মিউচুয়াল ফান্ড এবং অনুমোদিত দান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
রেয়াত দাবি করার জন্য বিনিয়োগ সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, প্রিমিয়াম রসিদ ও পরিশোধের প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত।
নির্ধারিত সময়ের আগে কিছু সরকারি সিকিউরিটিজ, মিউচুয়াল ফান্ড, ETF বা নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ভাঙালে সংশ্লিষ্ট বছরে অতিরিক্ত করদায় সৃষ্টি হতে পারে।
ব্যক্তি করদাতার ন্যূনতম কর
মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে:
- সাধারণ করদাতার ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা;
- নতুন করদাতার ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা।
বিনিয়োগ কর রেয়াত প্রয়োগের পর হিসাব করা কর ন্যূনতম করের নিচে নেমে গেলেও নির্ধারিত ন্যূনতম কর দিতে হতে পারে।
নিট সম্পদের ওপর সারচার্জ
সারচার্জ সরাসরি সম্পদের ওপর নয়; সাধারণভাবে নির্ধারিত আয়করের ওপর শতাংশ হারে আরোপিত হয়।
| নিট সম্পদের পরিমাণ | সারচার্জ |
|---|---|
| ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত | নেই |
| ৪ কোটির বেশি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত | আয়করের ১০% |
| ১০ কোটির বেশি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত | আয়করের ২০% |
| ২০ কোটির বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত | আয়করের ৩০% |
| ৫০ কোটির বেশি | আয়করের ৩৫% |
এ ছাড়া একাধিক মোটরগাড়ির মালিকানা অথবা মোট ৮,০০০ বর্গফুটের বেশি আয়তনের গৃহসম্পত্তি থাকলেও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী ১০% সারচার্জের প্রশ্ন আসতে পারে।
কারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন?
নিচের যেকোনো কারণে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে:
- করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে;
- আগের তিন বছরের কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে;
- কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হলে;
- কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে চাকরি করলে;
- সরকারি কর্মচারী হলে;
- কোনো ফার্মের অংশীদার হলে;
- করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারের আয় থাকলে;
- বাংলাদেশে অনাবাসী ব্যক্তির স্থায়ী প্রতিষ্ঠান থাকলে;
- আইনের অধীনে করদাতা হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলে; অথবা
- কোনো নির্ধারিত সেবা বা লেনদেনের জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বা PSR প্রয়োজন হলে।
অতএব, কর পরিশোধযোগ্য না হলেও কোনো ব্যক্তির রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।
অধিকাংশ ব্যক্তির জন্য অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ নং ১/২০২৬ (নতুন ট্যাবে খুলবে) অনুযায়ী ২৮ জুন ২০২৬ থেকে অধিকাংশ ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে কিছু করদাতা বাধ্যতামূলক অনলাইন দাখিল থেকে অব্যাহতি পাবেন। যেমন:
- ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব করদাতা;
- সনদপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা;
- বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা;
- মৃত করদাতার পক্ষে রিটার্ন দাখিলকারী আইনানুগ প্রতিনিধি; এবং
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক।
তাঁরা চাইলে স্বেচ্ছায় অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
সারা বছর রিটার্ন দাখিল ও সময়ভেদে করের প্রভাব
| রিটার্ন দাখিলের সময় | করের ওপর প্রভাব |
|---|---|
| ১ জুলাই–৩০ সেপ্টেম্বর | করদায়ের ৫% রেয়াত; সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা |
| ১ অক্টোবর–৩১ ডিসেম্বর | রেয়াত বা অতিরিক্ত কর নেই |
| ১ জানুয়ারি–৩১ মার্চ | অতিরিক্ত ২% কর; ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা |
| ১ এপ্রিল–৩০ জুন | অতিরিক্ত ৫% কর; ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা |
প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তির জন্য সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পর ৩০ জুন পর্যন্ত সময় থাকবে।
নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে বিলম্বিত রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে। স্বতঃপ্রণোদিত বিলম্বিত রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রদেয় করের ১০% অথবা ৫,০০০ টাকা—যেটি বেশি—প্রযোজ্য হতে পারে।
পুনঃকর নির্ধারণের নোটিশে দেওয়া সময় শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিল করলে প্রদেয় করের ১৫% অথবা ১০,০০০ টাকা—যেটি বেশি—প্রযোজ্য হতে পারে।
সম্পদ, দায় ও জীবনযাপন ব্যয়ের বিবরণী
যেসব করদাতার জন্য সম্পদ ও দায়ের বিবরণী অথবা জীবনযাপন ব্যয়ের বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক, তাঁরা তা রিটার্নের সঙ্গে জমা না দিলে রিটার্ন অসম্পূর্ণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বিশেষভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত:
- জমি, ফ্ল্যাট ও বাড়ি;
- মোটরগাড়ি;
- ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব;
- শেয়ার, সিকিউরিটিজ ও সঞ্চয়পত্র;
- ব্যবসায় বিনিয়োগ;
- ঋণ ও অন্যান্য দায়;
- উপহার ও উত্তরাধিকার;
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশি সম্পদ ও আয়; এবং
- ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয়।
ঘোষিত আয়, ব্যক্তিগত ব্যয় এবং সম্পদ বৃদ্ধির মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে কর নির্ধারণ ও তদন্তের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের আয়কর ২০২৬–২৭: এক নজরে
সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত সীমা
করমুক্ত সীমার পর বর্তমান ব্যক্তি করহার
উৎসে কর রিটার্নের সাধারণ সময়চক্র
আপিলের সংশোধিত প্রি-ডিপোজিট ধাপ
ব্যবসা ও কোম্পানির আয়কর
কোম্পানি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের করহার
| করদাতার ধরন | সাধারণ করহার | শর্তসাপেক্ষ কম করহার |
|---|---|---|
| IPO-র মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০% শেয়ার ইস্যুকারী পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি | ২২.৫% | ২০% |
| IPO-র মাধ্যমে ১০%-এর কম শেয়ার ইস্যুকারী পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি | ২৫% | ২২.৫% |
| অন্যান্য বা নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি | ২৭.৫% | ২৫% |
| পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান | ৩৭.৫% | — |
| নন-পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান | ৪০% | — |
| তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি | ৪৫% | — |
| মোবাইল ফোন অপারেটর | সাধারণভাবে ৪৫% | বিশেষ শর্তে ভিন্ন হতে পারে |
| ফার্ম, ট্রাস্ট বা ব্যক্তিসংঘ | ২৭.৫% | — |
| নিবন্ধিত সমবায় সমিতি | ২০% | — |
| যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | ৫% | — |
কম করহার পেতে হলে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের নির্ধারিত শর্ত সম্পূর্ণভাবে মানতে হবে। কেবল অধিকাংশ লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হলেই কম হার দাবি করা যাবে না।
টার্নওভার কর
ব্যবসা বা পেশার নিয়মিত আয়করের পরিমাণ নির্ধারিত টার্নওভার করের চেয়ে কম হলে লাভ বা লোকসান নির্বিশেষে টার্নওভার কর প্রযোজ্য হতে পারে।
| ব্যবসার ধরন | টার্নওভার করহার |
|---|---|
| তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী | ৩% |
| কার্বনেটেড বা মিষ্টিজাত পানীয় | ২.৫% |
| মোবাইল ফোন অপারেটর বা NTTN | ১.৫% |
| অন্যান্য ক্ষেত্র | ১% |
যোগ্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর প্রথম তিন আয়বর্ষে শর্তসাপেক্ষে মোট প্রাপ্তির ওপর ০.২০% কর প্রযোজ্য হতে পারে।
টার্নওভার নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূসক, সম্পূরক শুল্ক এবং অন্য উৎসের আয় বাদ দেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য।
ব্যবসার কোন খরচ করযোগ্য আয় থেকে বাদ দেওয়া যায়?
কোনো ব্যবসায়িক ব্যয় সাধারণভাবে অনুমোদিত হতে হলে সেটি:
- ব্যবসা বা পেশার জন্য সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে ব্যয়িত হতে হবে;
- রাজস্ব প্রকৃতির হতে হবে;
- ব্যক্তিগত ব্যয় হওয়া যাবে না; এবং
- মূলধনি ব্যয় হওয়া যাবে না।
প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বিল, ভাউচার, চুক্তি, ব্যাংক লেনদেন, সেবা গ্রহণের প্রমাণ এবং উৎসে করের কাগজপত্র সংরক্ষণ করা উচিত।
নির্ধারিত অননুমোদিত ব্যয় এখন আর আলাদা “বিশেষ ব্যবসায়িক আয়” হিসেবে করযোগ্য হবে না। বরং তা ব্যবসায়িক আয়ের সঙ্গে যোগ করে প্রযোজ্য হারে কর নির্ধারণ করা হবে।
উৎসে করের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
বর্তমান উৎসে করের হার ও পদ্ধতি উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ (নতুন ট্যাবে খুলবে) অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:
- উৎসে কর রিটার্ন সাধারণভাবে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দাখিল করতে হবে;
- সংশ্লিষ্ট ত্রৈমাসিক শেষ হওয়ার পরবর্তী মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে;
- উৎসে কর ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট করদাতার TIN ব্যবহৃত হবে;
- প্রাপক PSR দিতে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য উৎসে করের হার ৫০% বৃদ্ধি পেতে পারে, যদি তিনি রিটার্ন দাখিল থেকে আইনগতভাবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত না হন; এবং
- চালান বা চুক্তিতে সেবার যে নাম লেখা হয়েছে শুধু সেটির ভিত্তিতে নয়, লেনদেনের প্রকৃত ধরন অনুযায়ী উৎসে কর নির্ধারিত হবে।
কয়েকটি সাধারণ উদাহরণ:
| পরিশোধের ধরন | সাধারণ উৎসে করহার |
|---|---|
| বাড়িভাড়া বা নির্ধারিত ভাড়া | ১০% |
| রয়্যালটি বা মেধাস্বত্বের ব্যবহার | ১০% |
| সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন | ৫% |
| ব্যক্তিকে পেশাগত বা পরামর্শ সেবার মূল্য | ১৫% |
| প্রতিষ্ঠানকে পেশাগত বা পরামর্শ সেবার মূল্য | ৭.৫% |
| পরিবহন, গাড়িভাড়া বা রাইড শেয়ারিং সেবা | ২% |
| আবাসিক ব্যক্তিকে লভ্যাংশ | ১৫% |
| ব্যক্তি ছাড়া অন্য আবাসিক করদাতাকে লভ্যাংশ | ২০% |
এগুলো কেবল সাধারণ উদাহরণ। সেবার প্রকৃতি, প্রাপকের পরিচয়, PSR, চুক্তি ও করচুক্তির কারণে হার ভিন্ন হতে পারে।
উৎসে কর কর্তন, সংগ্রহ বা জমা দেওয়ার বিধান মানা না হলে ঘাটতি করের সঙ্গে ওই ঘাটতির অতিরিক্ত ৫০% পর্যন্ত দায় সৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে ব্যয় অননুমোদন, সুদ বা অন্য আইনগত ফলও যুক্ত হতে পারে।
কোম্পানির রিটার্ন ও অগ্রিম কর
কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সাধারণ সময়সীমা হলো:
- আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পর নবম মাসের ১৫ তারিখ; অথবা
- আয়বর্ষের পরবর্তী ১৫ সেপ্টেম্বর—
দুটির মধ্যে যেটি পরে আসে।
অগ্রিম কর সাধারণভাবে চার কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়:
- ১৫ সেপ্টেম্বর;
- ১৫ ডিসেম্বর;
- ১৫ মার্চ; এবং
- ১৫ জুন।
রিটার্ন দাখিলের আগে অবশিষ্ট স্বনির্ধারণী কর পরিশোধ করতে হবে।
রিফান্ড, আপিল ও বিশেষ কর বিধান
অতিরিক্ত করের রিফান্ড বা সমন্বয়
কর্তিত, সংগৃহীত বা পরিশোধিত কর নিয়মিত করদায়ের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ:
- রিফান্ড নেওয়া;
- আগের কর বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা; অথবা
- ভবিষ্যৎ করদায়ের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য বহন করা যেতে পারে।
অনুমোদিত রিফান্ডের আবেদন পাওয়ার পর সাধারণভাবে ৬০ দিনের মধ্যে রিফান্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। রিফান্ড দেওয়া না হলে করদাতা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনার বা বোর্ডের কাছে আবেদন করতে পারবেন।
শুধু চাকরি, আর্থিক পরিসম্পদ ও কৃষি থেকে আয় রয়েছে—এমন ব্যক্তির রিফান্ডের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের ১২০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর বিধান রয়েছে।
আয়কর আপিলে কত টাকা জমা দিতে হবে?
কর নির্ধারণে ধার্য কর এবং করদাতার স্বীকৃত করদায়ের পার্থক্যের ওপর সংশোধিত হারে অর্থ জমা দিতে হবে:
| আপিলের পর্যায় | জমার হার |
|---|---|
| কর কমিশনার (আপিল) | ১% |
| কর আপিল ট্রাইব্যুনাল | ৩% |
| হাইকোর্ট বিভাগে সংশ্লিষ্ট পর্যায় | ১০% |
এই অর্থ জমা দেওয়া আপিল গ্রহণযোগ্য হওয়ার একটি প্রক্রিয়াগত শর্ত। এর মাধ্যমে মামলার মূল বিরোধ নিষ্পত্তি হয় না।
কর নির্ধারণ বা আপিলের আদেশ পাওয়ার পর দ্রুত:
- আদেশ প্রাপ্তির তারিখ;
- আপিলের সময়সীমা;
- সঠিক ফোরাম;
- স্বীকৃত করদায়;
- আগে পরিশোধিত অর্থ; এবং
- নতুন করে প্রয়োজনীয় জমার পরিমাণ—
পর্যালোচনা করা জরুরি।
জমির মালিক ও ডেভেলপারের যৌথ উন্নয়ন চুক্তি
জমির মালিক ডেভেলপারকে উন্নয়ন অধিকার দিয়ে বিনিময়ে টাকা, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট বা অন্য সুবিধা পেলে সেই প্রাপ্তি মূলধনি মুনাফা হিসেবে করযোগ্য হবে।
আইনসম্মত অধিগ্রহণ মূল্য বাদ দিয়ে নির্ধারিত নিট মুনাফার ওপর ১৫% হারে কর প্রযোজ্য হবে।
চুক্তির আগে নিচের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা উচিত:
- জমির মূল দলিল ও অধিগ্রহণ মূল্য;
- উন্নয়ন চুক্তি;
- আমমোক্তারনামা;
- জমি ও উন্নয়ন অধিকারের মূল্যায়ন;
- ফ্ল্যাট বণ্টনের তালিকা;
- নগদ বা অন্য সুবিধা;
- দখল ও হস্তান্তরের সময়; এবং
- নিবন্ধনের সময় কর্তিত বা সংগৃহীত কর।
ডিজিটাল Permanent Establishment
কোনো অনাবাসী প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ লাখ ডিজিটাল বা অনলাইন গ্রাহক কিংবা সাবস্ক্রাইবার থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে বাংলাদেশে তার স্থায়ী প্রতিষ্ঠান বা Permanent Establishment সৃষ্টির প্রশ্ন আসতে পারে।
বিদেশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সফটওয়্যার কোম্পানি, সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা ও ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবসাকে তাদের:
- বাংলাদেশি গ্রাহকের সংখ্যা;
- আয়ের উৎস;
- চুক্তির ধরন;
- স্থানীয় প্রতিনিধি;
- পেমেন্ট সংগ্রহ; এবং
- প্রযোজ্য করচুক্তি—
পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অনাবাসী ব্যক্তির উৎসে কর
বাংলাদেশে Permanent Establishment নেই—এমন অনাবাসী ব্যক্তিকে দেওয়া সংশ্লিষ্ট আয়ের ওপর যে কর কর্তন করা হবে, তা সাধারণভাবে ওই আয়ের চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রযোজ্য দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিতে কম হার বা কর অব্যাহতি থাকলে সাধারণত সেই সুবিধা প্রয়োগের আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত সনদ নিতে হবে।
নতুন ও সম্প্রসারিত কর সুবিধা
সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে:
- নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনাকারী যোগ্য উৎপাদনকারীর নির্দিষ্ট আয় ৩০ জুন ২০৩৫ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত;
- স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তৈলবীজ ব্যবহারকারী যোগ্য ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য দশ বছর মেয়াদি ধাপে ধাপে কর অব্যাহতি;
- যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্ধারিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৫% করহার; এবং
- সব সম্পদ ও দায় হস্তান্তরসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ফার্মকে কোম্পানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে মূলধনি মুনাফা কর থেকে অব্যাহতি।
কর অব্যাহতি বা কম করহার পাওয়ার জন্য সাধারণত সময়মতো রিটার্ন দাখিলসহ কার্যক্রম, বিনিয়োগ, স্থান, অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের শর্ত পূরণ করতে হয়।
রিটার্ন দাখিলের আগে করদাতার চেকলিস্ট
ব্যক্তি করদাতার জন্য
- e-TIN ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য;
- বেতন বিবরণী ও নিয়োগকর্তার কর সনদ;
- ব্যাংক সুদ ও উৎসে করের সনদ;
- সঞ্চয়পত্র ও বিনিয়োগের হিসাব;
- বাড়িভাড়া ও সম্পত্তি থেকে আয়;
- ব্যবসা বা পেশার আয়;
- মূলধনি মুনাফা;
- বিনিয়োগ কর রেয়াতের কাগজপত্র;
- উৎসে কর্তিত বা সংগৃহীত কর;
- সম্পদ, দায় ও জীবনযাপন ব্যয়ের বিবরণী;
- উপহার, উত্তরাধিকার ও ঋণের নথি; এবং
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশি আয় ও সম্পদ।
কোম্পানি ও ব্যবসার জন্য
- প্রযোজ্য কোম্পানি করহার;
- ব্যাংকিং চ্যানেলের শর্ত;
- টার্নওভার করের দায়;
- নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী;
- আয়কর হিসাব;
- ত্রৈমাসিক উৎসে কর রিটার্ন;
- সরবরাহকারীর PSR;
- ব্যয়ের অনুমোদনযোগ্যতা;
- অগ্রিম কর;
- স্থায়ী সম্পদ ও অবচয়;
- সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন;
- অনাবাসী ব্যক্তিকে পরিশোধ;
- করচুক্তির সনদ;
- কর অব্যাহতির শর্ত;
- রিফান্ড বা সমন্বয়ের সুযোগ; এবং
- আপিলের সময়সীমা।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
করমুক্ত সীমার নিচে আয় হলে কি রিটার্ন দিতে হবে?
সব ক্ষেত্রে নয়। তবে পেশা, পদ, কোম্পানির পরিচালক হওয়া, আগের কর নির্ধারণ, অংশীদারি ব্যবসা বা PSR প্রয়োজন হওয়ার কারণে কর payable না হলেও রিটার্ন বাধ্যতামূলক হতে পারে।
বর্তমানে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত সীমা কত?
করবর্ষ ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮-এর জন্য সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা।
অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
অধিকাংশ ব্যক্তি করদাতার জন্য বাধ্যতামূলক। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তি, সনদপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত ব্যক্তির প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকসহ নির্ধারিত কিছু শ্রেণি বাধ্যতামূলক অনলাইন দাখিল থেকে অব্যাহতি পাবেন।
উৎসে কর কাটা হলেই কি চূড়ান্ত কর পরিশোধ হয়ে যায়?
সব ক্ষেত্রে নয়। উৎসে কর কখনো অগ্রিম কর, কখনো ন্যূনতম কর এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট আয় ও আইনের ধারা পরীক্ষা করতে হবে।
অতিরিক্ত উৎসে করের টাকা কি ফেরত পাওয়া যাবে?
নিয়মিত করদায়ের চেয়ে বেশি কর কর্তিত বা পরিশোধিত হলে আইন অনুযায়ী রিফান্ড অথবা আগের বা ভবিষ্যৎ করদায়ের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে।
Roy Law Nexus যেভাবে সহায়তা করতে পারে
Roy Law Nexus ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, কোম্পানি, অনাবাসী ও বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত আইনি ও কর সহায়তা প্রদান করে।
রিটার্ন প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক কমপ্লায়েন্স
- ব্যক্তি ও কোম্পানির আয়কর রিটার্ন;
- আয়কর বিষয়ে আইনি মতামত ও প্রি-ফাইলিং রিভিউ;
- সম্পদ, দায় ও জীবনযাপন ব্যয়ের সমন্বয়;
- উৎসে কর কর্তন, জমা ও রিটার্ন; এবং
- কোম্পানি কর পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন।
সম্পত্তি, অনাবাসী ও আন্তর্জাতিক কর
- জমি ও যৌথ উন্নয়ন চুক্তির কর;
- অনাবাসী ও আন্তর্জাতিক কর;
- দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির সুবিধা; এবং
- অর্থের উৎস ও সহায়ক কাগজপত্র পর্যালোচনা।
অডিট, রিফান্ড ও করবিরোধ
- আয়কর অডিট ও কর নির্ধারণ;
- রিফান্ড ও কর সমন্বয়ের আবেদন;
- কর কমিশনার (আপিল)-এর সামনে আপিল;
- কর আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা; এবং
- হাইকোর্ট বিভাগে আয়কর রেফারেন্স।
সরকারি আইনি উৎস
লেখাটি ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি আইন ও নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রস্তুত:
- আয়কর আইন, ২০২৩ ও Authentic English Text—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (নতুন ট্যাবে খুলবে)
- অর্থ আইন, ২০২৬—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (নতুন ট্যাবে খুলবে)
- উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (নতুন ট্যাবে খুলবে)
- অনলাইন রিটার্ন সংক্রান্ত বিশেষ আদেশ নং ১/২০২৬ (নতুন ট্যাবে খুলবে)
- প্রযোজ্য আয়কর SRO, সাধারণ আদেশ ও দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি
লেখক পরিচিতি

স্বদীপ রায় সজীব
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সদস্য, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশন
আইনি ঘোষণা: এই নিবন্ধটি পর্যালোচনার তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি উপকরণের ভিত্তিতে সাধারণ আইনি ও করসংক্রান্ত তথ্য দেয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট করদাতা বা লেনদেনের জন্য স্বতন্ত্র আইনি মতামত নয়। পদক্ষেপের আগে প্রযোজ্য আইন, SRO, আদেশ ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা উচিত।

