সূচিপত্র
- • ভূমিকা
- • সালিস কী?
- • সালিস ও আদালত: মূল পার্থক্য
- • বাংলাদেশে সালিসের আইনগত কাঠামো
- • কোন ধরনের বিরোধ সালিসে যেতে পারে?
- • সালিসের ধরন
- • সালিস শুরু করার আগে যাচাই
- • সালিসি প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ
- • সালিসের সুবিধা
- • সালিসের সীমাবদ্ধতা
- • সাধারণ ভুল
- • কখন আইনগত সহায়তা
- • রয় ল’ নেক্সাস যেভাবে সহায়তা করে
- • সাধারণ প্রশ্ন
- • উপসংহার
- • তথ্যসূত্র
ভূমিকা
ব্যবসা, নির্মাণকাজ, সরবরাহ চুক্তি, যৌথ উদ্যোগ, কোম্পানি পরিচালনা, শেয়ারহোল্ডার চুক্তি, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরোধ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এসব বিরোধ আদালতে গেলে অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা, খরচ, প্রকাশ্য বিচারপ্রক্রিয়া এবং কার্যকর প্রতিকার পেতে বিলম্বের ঝুঁকি থাকে। এ কারণেই আধুনিক বাণিজ্যিক চুক্তিতে সালিস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সালিস হলো এমন একটি বেসরকারি কিন্তু আইনসম্মত পদ্ধতি, যেখানে পক্ষগণ নিজেদের সম্মতিতে বিরোধ আদালতের পরিবর্তে একজন বা একাধিক নিরপেক্ষ সালিসকারীর কাছে উপস্থাপন করেন। সালিসকারী পক্ষদের বক্তব্য, দলিল, সাক্ষ্য ও আইনগত যুক্তি বিবেচনা করে একটি সিদ্ধান্ত দেন, যাকে বলা হয় সালিসি রোয়েদাদ। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে এই রোয়েদাদ আদালতের ডিক্রির মতো কার্যকর করা যায়।
বাংলাদেশে সালিসের প্রধান আইন হলো সালিস আইন, ২০০১। এই আইন দেশীয় সালিস, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিস এবং বিদেশি সালিসি রোয়েদাদ স্বীকৃতি ও কার্যকর করার বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
সালিস কী?
সালিস হলো আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সম্মতিভিত্তিক আইনি প্রক্রিয়া। এখানে পক্ষগণ আগে থেকেই বা বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার পরে লিখিতভাবে সম্মত হন যে, নির্দিষ্ট বিরোধ আদালতে না গিয়ে সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
সালিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো সালিসি চুক্তি। কোনো চুক্তির মধ্যে একটি সালিস ধারা থাকতে পারে, আবার আলাদা সালিসি চুক্তিও হতে পারে। সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৯ অনুযায়ী সালিসি চুক্তি লিখিত হতে হবে।
সালিস ও আদালত: মূল পার্থক্য
আদালত রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার অংশ। সেখানে মামলা সাধারণত প্রকাশ্য, প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে আনুষ্ঠানিক এবং সময়সাপেক্ষ হতে পারে। অন্যদিকে সালিস পক্ষদের সম্মতিতে পরিচালিত একটি বেসরকারি বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি।
বাংলাদেশে সালিসের আইনগত কাঠামো
সালিস আইন, ২০০১ বাংলাদেশের পুরো ভূখণ্ডে প্রযোজ্য। সাধারণভাবে, সালিসের স্থান বাংলাদেশ হলে এই আইন প্রযোজ্য হয়। তবে আইনটির ধারা ৪৫, ৪৬ ও ৪৭ বিদেশি সালিসি রোয়েদাদ স্বীকৃতি ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।
বাংলাদেশ নিউ ইয়র্ক কনভেনশন, ১৯৫৮-এর সদস্য রাষ্ট্র। বাংলাদেশ ৬ মে ১৯৯২ তারিখে এই কনভেনশনে যোগ দেয়।
কোন ধরনের বিরোধ সালিসে যেতে পারে?
- বাণিজ্যিক চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধ;
- নির্মাণ ও অবকাঠামো প্রকল্পের বিরোধ;
- সরবরাহ, বিক্রয় বা সেবা চুক্তি;
- শেয়ারহোল্ডার বা যৌথ উদ্যোগের বিরোধ;
- ব্যাংকিং ও অর্থায়ন চুক্তির বিরোধ;
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেন।
সালিসের ধরন
দেশীয়, আন্তর্জাতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও Ad hoc
সালিস আইন, ২০০১ অনুযায়ী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিস উভয়ই স্বীকৃত। প্রাতিষ্ঠানিক সালিসের ক্ষেত্রে BIAC একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
সালিস শুরু করার আগে যাচাই
- সালিসের স্থান, সংখ্যা ও সালিসকারী নিয়োগ পদ্ধতি;
- প্রযোজ্য আইন ও ভাষা;
- প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালা প্রযোজ্য কি না;
- নোটিশ, আলোচনা বা মধ্যস্থতার পূর্বশর্ত।
সালিসি প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ
সালিসি প্রক্রিয়া সাধারণত চুক্তি পর্যালোচনা, নোটিশ, ট্রাইব্যুনাল গঠন, দাবি-জবাব দাখিল, শুনানি, রোয়েদাদ এবং কার্যকরকরণ — এই ধাপগুলো নিয়ে এগিয়ে যায়। বিস্তারিত ইংরেজি সংস্করণে দেখুন।
সালিসের সুবিধা
- প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে নমনীয়;
- পক্ষগণ বিশেষজ্ঞ সালিসকারী নির্বাচন করতে পারেন;
- বাণিজ্যিক গোপনীয়তা রক্ষা সহজ হতে পারে;
- রোয়েদাদ আদালতের ডিক্রির মতো কার্যকর করা যায়।
সালিসের সীমাবদ্ধতা
- সালিসকারীর ফি ও বিশেষজ্ঞ খরচ বেশি হতে পারে;
- আপিলের সুযোগ সীমিত;
- দুর্বল সালিস ধারা হলে শুরুতেই জটিলতা তৈরি হয়।
সাধারণ ভুল
দুর্বল সালিস ধারা, দলিল সংরক্ষণে অবহেলা এবং রোয়েদাদ চ্যালেঞ্জের সীমা না বোঝা — এগুলোই সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
কখন আইনগত সহায়তা নেওয়া উচিত?
- চুক্তিতে সালিস ধারা খসড়া করার সময়;
- সালিসের নোটিশ পাঠানোর আগে;
- জরুরি অন্তর্বর্তী আদেশের প্রয়োজন হলে;
- রোয়েদাদ কার্যকর বা বাতিলের প্রশ্ন উঠলে।
রয় ল’ নেক্সাস যেভাবে সহায়তা করতে পারে
Roy Law Nexus / রয় ল’ নেক্সাস বাংলাদেশে ব্যক্তি, উদ্যোক্তা, কোম্পানি, ঠিকাদার, সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও বাণিজ্যিক পক্ষদের সালিস-সংক্রান্ত বিষয়ে পেশাদার আইনি সহায়তা প্রদান করে।
- চুক্তি, সালিস ধারা, চিঠিপত্র ও বিরোধ-সংক্রান্ত দলিল পর্যালোচনা;
- সালিস ধারা, সালিস নোটিশ, জবাব, দাবি বিবৃতি ও প্রতিরক্ষা খসড়া;
- সালিসকারী নিয়োগ বা চ্যালেঞ্জ বিষয়ে পরামর্শ;
- অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা ও প্রমাণ রক্ষায় সহায়তা;
- দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিসে প্রস্তুতি;
- সালিসি রোয়েদাদ বাতিল, কার্যকর বা বিদেশি রোয়েদাদ স্বীকৃতিতে সহায়তা।
বাংলাদেশে সালিস নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
উপসংহার
বাংলাদেশে সালিস বাণিজ্যিক ও চুক্তিভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। সঠিকভাবে খসড়া করা সালিস ধারা, উপযুক্ত সালিসকারী নির্বাচন, শক্তিশালী দলিল-প্রমাণ এবং কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকলে সালিস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
দায়স্বীকার: উপরের তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ আইনগত সচেতনতার জন্য প্রদান করা হয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনগত পরামর্শ নয়।
তথ্যসূত্র
- Bangladesh International Arbitration Centre (BIAC) (2019) BIAC Arbitration Rules 2019. https://biac.org.bd/biac-arbitration-rules-2019/ (Accessed: 28 May 2026).
- Bangladesh International Arbitration Centre (BIAC) (2025a) Bangladesh International Arbitration Centre. https://biac.org.bd/ (Accessed: 28 May 2026).
- Bangladesh International Arbitration Centre (BIAC) (2025b) BIAC Arbitration Process. https://biac.org.bd/biac-arbitration-process/ (Accessed: 28 May 2026).
- Government of Bangladesh (2001) সালিস আইন, ২০০১ [Arbitration Act, 2001], Laws of Bangladesh. https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-850.html (Accessed: 28 May 2026).
- Government of Bangladesh (2001) The Arbitration Act, 2001 (English) — MCCI, Dhaka. https://www.mccibd.org/images/uploadimg/act_and_policy/corporate_governance/The-Arbitration-Act-2001.pdf (Accessed: 28 May 2026).
- Government of Bangladesh (2004) সালিস আইন, ২০০১, section 7A: Power of Court and High Court Division to make interim orders. https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-850/section-32657.html (Accessed: 28 May 2026).
- United Nations (1958) Convention on the Recognition and Enforcement of Foreign Arbitral Awards, New York, 10 June 1958. https://treaties.un.org/pages/viewdetails.aspx?chapter=22&clang=_en&mtdsg_no=xxii-1&src=treaty (Accessed: 28 May 2026).

